সম্পাদকীয়
দৈনিক চট্টলার খবর পা রাখলো দুই বছরে
এক বছর পূর্তি হলো দৈনিক চট্টলার খবর। আর ৬ বছরে পা রাখলো জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ‘চট্টলার খবর’। কখনো মসৃণ পথে, কখনো সমস্যাসংকুল পথে এগিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের। এই পুরো সময়ে আমরা চেষ্টা করেছি আত্মশক্তি লাভকরতে এবং পাঠকের হাতে একটি রুচিশীল দৈনিক এবং অনলাইন পোর্টাল উপহার দিতে।
সংবাদপত্রের পাঠকমাত্রই জানেন এবং বোঝেন, এ সময়টি ছাপা পত্রিকার জন্য কতটা প্রতিকূল। বিশ্বজুড়েই ছাপা পত্রিকার পাঠক কমছে। ডিজিটাল মিডিয়ায় সংবাদগুলো পাওয়া যাচ্ছে বলে ছাপা পত্রিকার প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। ফলে, সংবাদপত্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সবচেয়ে বড় যে সহায়, সেই বিজ্ঞাপন পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিজ্ঞাপনের বাজার সংবাদপত্র থেকে ডিজিটাল মিডিয়া, তথা ফেসবুক, ইউটিউবের দিকে ধাবমান। এ রকম প্রতিকূল অবস্থায় ছাপা কাগজের টিকে থাকা খুবই তাৎপর্যময় ঘটনা।
একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, অনেক কিছুই আর আগের মতো নেই। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এসেছে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্বাভাবিক উল্লম্ফনে। ছাপা পত্রিকাকে বাঁচতে হয় নিউজপ্রিন্টের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এই সময়ে নিউজপ্রিন্টের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে পত্রিকা প্রকাশের খরচ বেড়ে গেছে অনেক গুণ। কিন্তু সেই তুলনায় পত্রিকার দাম সে রকম বাড়েনি। সততার সঙ্গে একটি পত্রিকাকে চালিয়ে নিয়ে যেতে হলে যতটা অর্থ আয় করা সংগত, সে আয় বিজ্ঞাপনজগৎ থেকে আসে না। ফলে সরু রশির ওপর দিয়ে হাঁটার মতোই কঠিন কাজ হয়ে পড়েছে সংবাদপত্র চালানো।
একটি ভালো, রুচিশীল পত্রিকা পাঠককে উপহার দেওয়ার চেষ্টা আমরা করেছি। পত্রিকার মান বাড়ানোর জন্য অবধারিতভাবে যা প্রয়োজন, তার একটি হলো সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের প্রশিক্ষণ। পত্রিকার ভেতরের এবং বাইরের প্রশিক্ষকদের দিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আমরা করেছি। এতে পত্রিকার গুণগত মান ধরে রাখা সহজ হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি, একটি মসৃণ কর্মপরিবেশ যেন সৃষ্টি হয়। মুখে বড় বড় কথা না বলে কাজের ক্ষেত্রে কর্মীতে-কর্মীতে একটা পারিবারিক অথচ পেশাগতভাবে দক্ষ সম্পর্ক যেন গড়ে ওঠে, সেই চেষ্টা অবিরত চালিয়ে যাওয়া গেছে। ফলে, কেউ এই পত্রিকা থেকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরও দৈনিক চট্টলার খবরের কর্মপরিবেশের সুনাম করে থাকেন, যা আমাদের মিলিত প্রয়াসের সাক্ষ্য দেয়।
এ কথা সত্য, এই যুগে পাঠক যত ধরনের খবর চান, নানা কারণেই তার সব পরিবেশন করা সম্ভব হয় না। নানা ধরনের বাধা যেমন থাকে, তেমনি রুচির জায়গাটিকেও দৃঢ় রাখতে হয়। আমরা চেষ্টা করি, রুচিশীল খবরকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠুক পাঠকচাহিদা। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলে আমাদের কার্যক্রম।
‘চট্টলার খবর’ যাত্রালগ্ন থেকেই কখনও তথ্যের সঠিকতার সঙ্গে আপস করেনি। কখনও পাঠককে বিভ্রান্ত করেনি। যদি কখনও ভুল হয়, সঙ্গে সঙ্গে সেটার জন্য ক্ষমা চাইতেও আমরা কুণ্ঠাবোধ করিনি। ক্ষমা চাইলে কেউ কখনও ছোট হয় না, বরং আস্থার জায়গা বাড়ে। আমরা এমনটাই মনে করি। আমরা এটিও মনে করি, দ্রুত সংবাদ পরিবেশনের চেয়ে সঠিক সংবাদ পরিবেশন জরুরি।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের পত্রিকার পাঠকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট এবং হকার ভাইদের। যাঁরা অনেক পরিশ্রম করে, মেধা ও দক্ষতার সমন্বয়ে প্রতিদিনের ছাপা পত্রিকা, অনলাইন, অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাঁদের সবাইকে চট্টলার খবরের পক্ষ থেকে অভিনন্দন। আমরা চাই, একটি রুচিশীল পত্রিকা পাঠককে উপহার দেব। আমাদের সীমিত সামর্থ্যের পুরোটাই সে জন্য ব্যয় করার অঙ্গীকার করছি আমরা। আপনাদের সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
ফখ|চখ