chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

লাইসেন্সবিহীন ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণ : দগ্ধ ১৬—পুড়ে ছাই ৩০ জীপ

পর্যটননগরী কক্সবাজার-এর কলাতলীতে বুধবার রাত ছিল আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় মোড়া। নবনির্মিত একটি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজার জেলগেট ও আদর্শগ্রাম এলাকার ‘এন আলম’ নামের ফিলিং স্টেশনটিতে সন্ধ্যার দিকে মালিক-কর্মচারীদের অজান্তেই গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। ধীরে ধীরে গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে আদর্শগ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে স্টেশন চত্বর ও আশপাশে পার্কিং করে রাখা যানবাহনে।

স্থানীয়দের ধারণা, কোথাও থেকে জ্বালানো সিগারেটের আগুন থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হতে পারে।

লিকেজ শনাক্ত হওয়ার পরপরই ট্যাংকি থেকে গ্যাস ছেড়ে দেওয়া হয় এবং মাইকিং করে আগুন না জ্বালানো ও ধূমপান না করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের কারণে বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করে। অভিযানে সহায়তা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। রাত ১২টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ট্যাংক থেকে মাঝে মাঝে আগুন জ্বলে উঠছিল বলে তিনি জানান। ফলে পুরোপুরি নিরাপদ ঘোষণা করতে আরও সময় লাগতে পারে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধ ১০ জনের মধ্যে ৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। দু’জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে পাঠানো অন্তত দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডে ফিলিং স্টেশনের পাশে পার্কিং করে রাখা অন্তত ৩০টি ট্যুরিস্ট জীপ পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন গাড়ির মালিকরা। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর জানা যায়, ফিলিং স্টেশনটির ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছিল না। লাইসেন্সবিহীনভাবে এমন ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা পরিচালনার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তাসু/চখ

এই বিভাগের আরও খবর