এক সপ্তাহে হালিপ্রতি বেড়েছে ৩০–৩৫ টাকা
রমজান মানেই মূল্যবৃদ্ধি? কলার বাজারে লাগামহীন উল্লম্ফন
পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজারে কলার দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ইফতার ও সেহেরিতে ব্যাপক চাহিদাকে কেন্দ্র করে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি হালিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। রমজান শুরু হওয়ার আগেই এমন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
উপজেলা পৌরসভা বাজার, কেরানীহাট, বাজালিয়া সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যে কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, বর্তমানে তা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো বাজারে মানভেদে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রকৃত সরবরাহ সংকট না থাকলেও মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কলার এমন মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় ভোক্তা এনামুল হক বলেন, “এখনো রোজা শুরু হয়নি, তার আগেই কলার এমন দাম বৃদ্ধি—সাধারণ মানুষ আর কী খাবে? সেহেরি ও ইফতারের সময় মানুষ নিয়মিত কলা খায়। এই সময় চাহিদা বাড়ে জেনেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে ফেলছে। প্রশাসন যেন অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়।”
কেরানীহাটের খুচরা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা আড়ৎ থেকে কিনে এনে খুচরা বিক্রি করি। এক সপ্তাহ আগে যে কলা এক হালি ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় কিনতাম, এখন সেই কলা প্রতি হালি ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আড়তেই দাম বেড়েছে, তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
কেরানীহাট কলার আড়তের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, “আমরা মূলত বান্দরবান পাহাড়ি এলাকা থেকে কলা সংগ্রহ করি। সেখানে ডজনপ্রতি কলার দাম আগে ১০০ থেকে ১২০ টাকা ছিল, এখন তা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। রমজানকে সামনে রেখে উৎপাদন এলাকায়ও দাম বেড়েছে, পাশাপাশি সরবরাহ কিছুটা কম।”
তবে সচেতন মহলের মতে, রমজান এলেই একটি চক্র বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করে।
তারা বলছেন, প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এবং কঠোর নজরদারি না থাকলে রমজানজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
ভোক্তাদের দাবি, অবিলম্বে বাজার তদারকি জোরদার করে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে পবিত্র রমজানে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে সেহেরি ও ইফতার করতে পারেন।
তাসু/চখ
