chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

সোম বা মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন-পরবর্তী সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে সব প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে হয়।

এ ক্ষেত্রে প্রথমে দায়িত্ব থাকে স্পিকারের ওপর। তবে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগের পর প্রকাশ্যে অনুপস্থিত থাকায় এবং বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাবন্দি থাকায় শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন–এর মাধ্যমে শপথ পড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।

তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন দেশের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে যে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই নিরসন হয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। রাষ্ট্রপতির মনোনয়নের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির শপথ পাঠ করানো সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের ফলাফলের গেজেট আপাতত স্থগিত রয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে বলে জানা গেছে। স্থগিত থাকা দুটি আসনেও তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির শরিকরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যান্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। এই ফলাফলের ভিত্তিতে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা ও প্রোটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, সংসদ সদস্যদের শপথের দিনই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে একই দিনে দেশের নির্বাহী বিভাগের নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেবে। সব মিলিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন হতে যাচ্ছে, যেদিন নতুন সংসদ ও নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

ফখ|চখ

এই বিভাগের আরও খবর