২০৯ আসনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে সরকার গঠনের পথে বিএনপি
জুলাই-আগস্ট’২৪ গণঅভ্যুত্থানে দেশে পটপরিবর্তনের পর জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণে প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্র চালকের আসনে বসতে যাচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফলে ২০৯টি আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জনে একক সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি।
দলগতভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় অর্জন করেছে। এবার গড়ে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ বলে ইসির পরিচালক (জনসংযোগ) রুহুল আমিন মল্লিকের দেয়া তথ্য থেকে জানা গেছে। ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও ৪২টি দল কোনো আসন পায়নি। শুক্রবার রাতেই গেজেট হওয়ার কথা বলে ইসি জানায়।
ইসির দেয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ২০০১ সালের পর আবারও সরকার গঠনের পথে বিএনপি। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসন লাভ করে। ওই সময় আওয়ামী লীগ ৬২টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭টি আসনে বিজয়ী হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়। এদের মধ্যে বিএনপি ২৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে বিজয়ী হয়েছে ২১১টিতে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৪টি আসনে প্রার্থী দিয়ে আসন পেয়েছে ৬৮টি। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে পেয়েছে ৬টি।
২৫৩টি আসনে প্রার্থিতা দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র একটি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩৪টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ২টি আসন পেয়েছে। এছাড়া ৯০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ১টি আসন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ৫টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ১টি আসনে, ১৭টি আসনে প্রার্থী দিয়ে গণসংহতি আন্দোলন ১টি আসন এবং ২১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়ী হয়েছে।
২৪৯টি আসনের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭ জন জয়ী হয়েছেন। তবে চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের গেজেট প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ওই দুই আসনের ফলাফল ও গেজেট স্থগিত রয়েছে। এ ২টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি।
ভরাডুবিতে ৪২টি দলের মধ্যে হতাশাদ
এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়া ৫১ দলের মধ্যে ৪২ দল কোনো আসনেই জয়লাভ করতে পারেনি। তাদের চরমভাবে ভরাডুবি হয়েছে এই ভোটযুদ্ধে। অনেক দলই শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দল ও কিছু স্বতন্ত্র সদস্য। বাকি ৪২ দলের জন্য এবারের নির্বাচন হয়ে থাকলো হতাশার অধ্যায়।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি কোনো আসন পায়নি।
ফখ|চখ
