ব্রাদার্স এগ্রো পার্ক
কর্ণফুলীতে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের নতুন কেন্দ্র
প্রকৃতি ও ফুলপ্রেমীদের জন্য নতুন আনন্দের ঠিকানা হয়ে উঠেছে ব্রাদার্স এগ্রো পার্ক। নানান প্রজাতির রঙিন ফুল, সবুজ পরিবেশ ও পরিকল্পিত সৌন্দর্যের কারণে অল্প সময়েই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কেড়েছে এই পার্কটি।
পার্কটিতে, সূর্যমূখী,গাঁদা, কসমসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ৮ প্রজাতির ফুলের সমাহার রয়েছে। সুশৃঙ্খল বাগান, হাঁটার পথ, দুই পাশে ফুল,বিশেষ করে তরুণদের ভিড় বাড়ছে প্রতিদিন।
পার্কটি কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে, জাকির হাজীর বাড়ি এলাকার খালেক সওদারের দোকানের পাশেই গড়ে উঠেছে এই ব্যতিক্রমধর্মী ফুল ও সবজির বাগান।
কিছুদিন ধরে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করলেই চোখে পড়ছে লাল, হলুদ, কমলা আর বেগুনি ফুলের সমারোহ। দর্শনার্থীদের তোলা এ “ব্রাদার্স এগ্রো” এই রঙিন ছবিগুলো নেটিজেনদের মুগ্ধ করছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে ফুলের মাঝে তোলা ছবিগুলো ভার্চুয়াল জগতে এক চিলতে সতেজতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। কেউ মেক্সিকান ফুল কসমসসহ, সূর্যমূখীর ফুলের স্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছেন, কেউবা গাঁদা ফুলের বিশাল গালিচার পাশে প্রিয়জনের মুহূর্ত বন্দি করছেন। ছোট ছোট শিশুরা দোলনায় দোল খাচ্ছিল।

মাঠ জুড়ে সৌরভ ছড়াচ্ছে মেক্সিকান ফুল কসমসসহ নানা প্রজাতির ফুল,প্রতিদিন দেখতে টিকেট কেটে ভীড় জমাচ্ছেন শত শত দর্শনার্থীরা। ৮ প্রকার রংবেরঙের ফুলের বাগান বাড়িয়ে দিয়েছে “ব্রাদার্স এগ্রো পার্ক” সৌন্দর্য, এ যেন এক টুকরো ফুলের রাজ্য।
প্রকৃতি আর রঙিন ফুলের সমারোহে সাজানো এক ব্যতিক্রমী পর্যটন স্পট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ব্রাদার্স এগ্রো ফুলের পার্ক। সবুজে ঘেরা এই পার্কটি অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিভিন্ন প্রজাতির দেশি ও বিদেশি ফুলে সাজানো এই পার্কে, গাঁদা, কসমস, সূর্যমুখীসহ মৌসুমি ও শোভাবর্ধনকারী ফুলের চাষ করা হয়েছে। পরিকল্পিত বাগান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং নান্দনিক সাজসজ্জা পার্কটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অল্প সময়ের মধ্যেই এটি স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরে জমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, ব্রাদার্স এগ্রো পার্কে কসমস, গাঁদা, সূর্যমুখীসহ মোট ৮ প্রকার ফুল এবং টমেটো, কুমড়া, শিম,বাঁধাকপি, ব্রোক,কদুসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করা হচ্ছে।আর একপাশে বিশাল জায়গাজুড়ে সরিষা।
এ ফুলের মাঠে ভ্রমণ করলেই নানা ফুলের সৌন্দর্য যে কাউকে মোহিত করে তুলবে। হাটতেই মুহুর্তেই শরীর-মন চাঙ্গা করে তুলবে। অনুভূত হবে অপূর্ব প্রাকৃতিক সুখ।
উদ্যোক্তা মো. নেজাম উদ্দিন ইমতিয়াজ বলেন, আমাদের এ বিশাল জায়গায় জুড়ে আগে ধান ও সবজি চাষ করতেন। কিন্তু সার, বীজ ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেই চাষে লাভ হচ্ছিল না। তাই ভিন্নভাবে চিন্তা করে ফুল ও সবজি চাষের পাশাপাশি একটি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।তিনি আরও বলেন, প্রথমে ছোট পরিসরে উদ্যোগ নিলেও পরে চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষি দপ্তরের পরামর্শে সরিষা ও সূর্যমূখী ফুলের চাষ শুরু করি, গত সেপ্টেম্বরে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করি, ডিসেম্বর দিকে এসে ফুল ফুটতে শুরু হলে,ফুল প্রেমিকপ্রেমিকরা দেখতে ও ছবি তুলতে এসে ভিড় জমাচ্ছেন।পরবর্তী এটাই মাথায় রেখে বৃহৎ পরিসরে উদ্যোগনি যাতে এলাকার মানুষ যেন বেশি টাকা খরচ না করে এবং দূরে না গিয়ে কাছেই বিনোদনের সুযোগ পায়।এই চিন্তা থেকেই পার্কটি করা হয়েছে। এখানে মাত্র ৫০ টাকা টিকিট কেটে সবাই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। প্রতিমাসে সার, বীজ, কর্মচারীদের বেতন ও পরিচর্যা বাবদ প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়। সে কারণে টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমি খরচ তুলতে পারব কি না জানি না, তবে মানুষ আনন্দ পাচ্ছে।এটাই আমার সবচেয়ে বড় গর্ব। তিনি বলেন, আগামী ১৪ ফ্রেবুয়ারিতে বড় করে ফুল উৎসব করার প্লেন রয়েছে এবং সেটা সফল করতে কাজ শুরু করেছেন।তিনি আরো জানান, শুধু বিনোদন নয়—ফুল চাষে আগ্রহ সৃষ্টি, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব সচেতনতা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। ফুল চাষের পাশাপাশি মানুষের বিনোদন ও প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করতেই এই ফুলের পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ফুল চাষে আগ্রহ বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যটন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।পরবর্তীতে পুকুর মাছ চাষ ও একটি রেস্টুরেন্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
জান্নাত নামের এক দর্শনার্থী জানান, শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে এমন একটি ফুলের পার্কে সময় কাটানো সত্যিই প্রশান্তিদায়ক। বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হতে পারে শিক্ষণীয় ও উপভোগ্য স্থান।
মুন্না নামের ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী জানান, শহরের কোলাহল থেকে দূরে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের সময় পার্কের সৌন্দর্য মন ছুঁয়ে যায়।
স্থানীয়দের আশা, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রচারের মাধ্যমে ব্রাদার্স এগ্রো ফুলের পার্ক ভবিষ্যতে একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং কৃষিভিত্তিক পর্যটনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, ‘ব্রাদার্স এগ্রো পার্কের মালিকপক্ষ অনুমোদনের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। ইউএনও স্যারের নির্দেশে কৃষি বিভাগকে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কৃষি অফিস থেকে সরিষা ও সূর্যমুখীর প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা আশিস কুমার নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, কৃষি খামারের পাশাপাশি এমন ফুলের উদ্যোগ প্রংশনীয়।এই ব্যাতিক্রমধর্মী উদ্যোগ স্হানীয় মানুষের চিত্তবিনোদনের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে সবসময় এ ধরণের কার্যক্রমকে উৎসাহ ও সহযোগিতা করে থাকেন।
এসসি/চখ
