নির্বাচনের আগেই বন্দর–করিডোর ভাগবাটোয়ারা হয়ে যাচ্ছে: আনোয়ারী
কক্সবাজার–৪ উখিয়া ও টেকনাফ আসনে ১০ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকে এমপি প্রার্থী এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সমর্থনে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসনটির বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বিভিন্ন অভিযোগও করেছেন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় টেকনাফ পৌর শহরের কলেজ পাড়া মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ যখন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই একটি নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। নির্বাচনের কিছুদিন বাকি থাকতেই আমরা শুনতে পাচ্ছি বন্দর, করিডোর, ট্রাকের চাঁদা, টেম্পো স্ট্যান্ড, বালু ও গাছের ভাগবাটোয়ারা হয়ে যাচ্ছে। টেকনাফের মানুষের ভাগ্যকে টুকরো করে ভাগ করা হচ্ছে। আমাদের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। উখিয়া-টেকনাফকে নতুনভাবে সাজাতে এই জনপদে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও মামলাবাজদের বিরুদ্ধে আজ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। আমি যদি এমপি নির্বাচিত হয়, তাহলে বন্দর খুলে দেওয়া হবে। টেকনাফবাসীকে একটি দুর্নীতিমুক্ত বন্দর উপহার দেওয়া হবে। সবাইকে বৈধভাবে ব্যবসা করার অধিকার দেওয়া হবে। কোনো সিন্ডিকেটের হাতে বন্দর ইজারা দেওয়া হবে না।

লবণ শিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের রয়েছে বিশাল লবণ সম্পদ, কিন্তু লবণ চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। টেকনাফে লবণ শিল্পভিত্তিক কারখানা গড়ে তোলা হবে, যাতে চাষিরা ন্যায্য মূল্য পায়।
পর্যটন ও কর্মসংস্থান বিষয়ে তিনি বলেন, টেকনাফের যেসব পর্যটন এলাকা দখল হয়ে আছে, সেগুলো উখিয়া-টেকনাফের মানুষের সম্পদ। এসব সম্পদ জনগণের মধ্যে সুসম বণ্টন করা হবে। এখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে লক্ষ লক্ষ যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরো বলেন, টেকনাফে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, মেরিন ড্রাইভ, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, নাফ নদীসহ বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও মানুষ দুর্নামের বোঝা বহন করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পদের সুসম বণ্টনের মাধ্যমেই টেকনাফকে এই দুর্নাম থেকে মুক্ত করা হবে। মানুষের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
টেকনাফ পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, যারা বন্দর খেয়েছে, ড্রাফ্ট বাজি করেছে, শ্রমিকের টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং কায়ূকখালী খাল দখল করেছে, তারা আবার রাজনীতিতে ফিরতে চেষ্টা করছে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে উখিয়া-টেকনাফে নুর আহমদ আনোয়ারীকে এমপি নির্বাচিত করবো।
প্রসঙ্গত, উখিয়া-টেকনাফ (৪আসনে) পাঁচজন প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেলেও মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর নুর আহমদ আনোয়ারী ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী।
এসসি/চখ
