chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

কাপ্তাই বাঁধ: উন্নয়ন, কিন্তু কার জন্য?

কাপ্তাই বাঁধ,বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই বাঁধ দেশের আলো জ্বালিয়েছে, শিল্পায়নে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু আজও প্রশ্ন থেকে যায়,এই বাঁধের সবচেয়ে বড় মূল্য যারা দিয়েছে, তারা কি পেয়েছে ন্যায্য অধিকার?

রাঙামাটি ও পার্বত্য এলাকার হাজারো মানুষ কাপ্তাই বাঁধের কারণে ভিটেমাটি হারিয়েছে, জীবিকা হারিয়েছে, হারিয়েছে শত বছরের স্মৃতি। অথচ তাদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের গল্প আজও অসম্পূর্ণ।

প্রতি বছর বর্ষা এলেই কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ে। ডুবে যায় কৃষকের ফসল, ভেসে যায় বসতভিটা। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি কমে গেলে জেলেদের জাল পড়ে শূন্য হ্রদে। এই ওঠানামার মাঝখানে পড়ে সাধারণ মানুষ।যাদের জীবন বাঁধের পানির সুইচের মতো নিয়ন্ত্রিত হয় দূরের কোনো কন্ট্রোল রুম থেকে।

স্বাস্থ্য খাতের দিকে তাকালেও খুব একটা সুখকর নয়। জেলা সদর ছাড়া দুর্গম উপজেলাগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সেবা প্রায় অপ্রতুল। অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই চিকিৎসক, নেই প্রয়োজনীয় ওষুধ। পাহাড়ি গ্রাম থেকে একজন রোগীকে হাসপাতালে নিতে নৌকা, পাহাড়ি পথ আর অর্থ,সব মিলিয়ে লড়াই করতে হয় জীবনের সঙ্গে। অনেক সময় চিকিৎসার অভাবেই ঝরে যায় অমূল্য প্রাণ।

নিরাপত্তা ইস্যুতে রাঙামাটি এক স্পর্শকাতর বাস্তবতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ি ও বাঙালি,সব জনগোষ্ঠীর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। চাঁদাবাজি, ভূমি বিরোধ, হ্রদ ও পাহাড়পথে দুর্ঘটনা,সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ সবসময় এক ধরনের অজানা আতঙ্কে দিন কাটায়। নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নয়! নিরাপত্তা মানে নির্ভয়ে চলাফেরা, নির্ভয়ে জীবিকা নির্বাহ এবং নির্ভয়ে মত প্রকাশের সুযোগ।

রাঙামাটি জেলার সব কয়টি উপজেলার জনসাধারণ উন্নয়ন চায় কিন্তু সে উন্নয়ন হতে হবে মানবিক। কাপ্তাই বাঁধের সুবিধা যদি জাতীয় পর্যায়ে যায়, তবে এর ক্ষতিপূরণও স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো মৌলিক অধিকার।

পাহাড়ের মানুষ আর নীরব থাকতে চায় না। তাদের কণ্ঠস্বর শোনার এখনই সময়। নইলে উন্নয়নের গল্পের আড়ালে চাপা পড়ে যাবে রাঙামাটি বাসীর বাস্তব জীবন।

এসসি/চখ

এই বিভাগের আরও খবর