চট্টগ্রামে শীতের তাণ্ডব, বেড়েছে ঠাণ্ডার তীব্রতা
পৌষের শুরুতে শীতের দেখা মিলছে না- এমন কথাবার্তার মধ্যেই হঠাৎ করে জেঁকে বসেছে শীত। শীতের তীব্রতা বাড়ায় চট্টগ্রামে নগরীতেও হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সাধারণত গ্রামাঞ্চলেই শীতের প্রভাব একটু বেশি অনুভূত হয়। দিনের বেলায় ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে কম; ছয় থেকে আট ঘণ্টার বদলে তা দুই থেকে তিন ঘণ্টায় নেমে আসায় তাপমাত্রা কমেছে গত কয়েকদিনে। কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় নগরীতে টানা দুদিন দুপুরের আগে সূর্যের দেখা মেলেনি। সড়কে মানুষের উপস্থিতিও ছিল কম। জীবিকার তাগিদে বের হওয়া লোকজন টুপি, জ্যাকেট কিংবা শাল গায়ে জড়িয়ে বেরিয়েছেন। কেউ কেউ হাতমোজা ও মাফলার জড়িয়েও বের হয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন কুয়াশা ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে। আরো কিছুদিন শীতের তীব্রতা থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সামনের কয়েকদিন তাপমাত্রা আরো কমতে পারে।
হুট করে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় দরিদ্র মানুষরা বিশেষ করে শহরের বস্তি ও প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা গরম কাপড়ের অভাবে বেশি ভুগছে। নগরী ও মফস্বল শহরে অনেক মানুষ আবার খোলা আকাশের নিচে সড়কে বসবাস করে। শীতে তারাই ভুগছে বেশি। হিমেল বাতাস ও কুয়াশার কারণে জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ছেদ পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ, নিম্নআয়ের শ্রমজীবী ও ভাসমান জনগোষ্ঠী পড়েছেন চরম কষ্টে।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, ভারতের দিল্লি থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত কুয়াশা বিস্তৃতি লাভ করার কারণেই সূর্যের আলো ঢেকে গেছে। এ কারণে আগের কয়েকদিনের চেয়ে শীত লাগছে বেশি। শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সন্ধ্যা ৬টার বুলেটিনে বলা হয়েছে, আন্তঃসীমান্ত কুয়াশার বিস্তৃতির কারণেই এটি ঘটছে।
জানা গেছে, সাধারণত যদি আশপাশের কমপক্ষে দুটি আবহাওয়া স্টেশনের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামে, কমপক্ষে দুদিন এমন নিম্নমুখী তাপমাত্রা অব্যাহত থাকে এবং স্বাভাবিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থেকে যদি ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকে, তখন তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলা যাবে। চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রি।

অপরদিকে শীতের সময় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শীত বাড়ার সাথে সাথে শীতকালীন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বয়স্ক ও শিশুরা। তাই হাসপাতালে দীর্ঘ হচ্ছে শীতকালীন রোগে আক্রান্তদের সারি।
শীতকালীন রোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, শীত বাড়লে অ্যাজমা, শীতকালীন ডায়রিয়া, ভাইরাস জ্বরের হার বেড়ে যায়। তাই বিশেষ করে বাচ্চাদের দিকে বেশি নজর দেয়া উচিত। এছাড়া বৃদ্ধরা শীতজনিত রোগে ভুগেন। অতিরিক্ত শীতের কারণে রেসপিরেটরি ফেইলিয়র হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই সবাইকে গরম কাপড় পরতে হবে।
তাসু || চখ
