chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

মৌসুমের প্রথম যাত্রায় ১১’শ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে তিন জাহাজ

সকল জল্পনা-কল্পনা শেষে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ১১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করেছে তিনটি জাহাজ।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজগুলো রওনা হয়।

চলতি মৌসুমে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে প্রথম এই যাত্রায় ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজের যাত্রীরা ঘাটে উপস্থিত হতে থাকেন। জাহাজে উঠার আগে ক্রয়কৃত টিকিট প্রদর্শন সাপেক্ষে প্রত্যেক যাত্রীর হাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় পরিবেশবান্ধব পানির বোতল। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজে যেতে পারবেন। আগামী দুই মাস দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে। যাত্রার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

এদিকে, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত অক্টোবরে সরকার ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় রাতের বেলা সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়াফল সংগ্রহ, ক্রয়–বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরযান চলাচল বন্ধ এবং নিষিদ্ধ পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহারও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

সী ক্রুজ অপারেটরস অনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (স্কোয়াব)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ৬টি জাহাজকে প্রশাসন অনুমতি দিয়েছে। আজ এগারো’শ যাত্রীর আনুপাতিক হার বিবেচনায় তিনটি জাহাজ গেছে। সকল যাত্রী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে এবং সবার কিউআর কোড যাচাই করা হচ্ছে। সরকারের নির্দেশনাগুলো আমাদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নিলে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যেতো।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক রোকসানা আলী বলেন,
সেন্টমার্টিন আমার পছন্দের জায়গা অনেকবার গিয়েছি। আগে টেকনাফ থেকে দ্রুত যাওয়া যেত, কিন্তু এখন সেটা হচ্ছে না। এত পথের জার্নি একটু কষ্টের।

ঢাকা থেকে আসা আরেক পর্যটক বলেন, প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিন যাচ্ছি, সত্যিই খুব রোমাঞ্চকর লাগছে এই ভ্রমণ। প্রশাসনের তৎপরতাও প্রশংসনীয়, আশা করছি সময়গুলো ভালো কাটবে।

কক্সবাজার জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকেরা রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রেখে যাবে। সৌন্দর্য রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব। তারা যাতে নির্বিঘ্নে সেন্টমার্টিন যাত্রা উপভোগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে আমাদের সার্বক্ষণিক তৎপরতা অব্যাহত আছে। সমুদ্রপথে জাহাজে এবং সেন্টমার্টিনে আমাদের সদস্যরা নিরাপত্তা দেবে, যেকোনো প্রয়োজনে সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত।

প্রথম দিনের যাত্রা পরিদর্শনে এসে জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, আজ থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের জন্য রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকছে। অতিরিক্ত পর্যটক নিয়ে যাতে জাহাজ যেতে না পারে সে বিষয়ে তদারকি করছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১২টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

সেন্টমার্টিনের হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, আজ থেকে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকলেও মনের ভেতরে দুঃখটা থেকে যায়। পাঁচ মাসের সিজন এখন দুই মাসে সীমাবদ্ধ। আগামী মৌসুমে যেনো সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সরকারের কাছে এই দাবি জানাই।

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন উন্মুক্ত করা হলেও পুরো নভেম্বর মাস রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ থাকায় আগ্রহী পর্যটক কম ছিল। ফলে এ সময়ে কক্সবাজার থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যায়নি।

এসসি/চখ

এই বিভাগের আরও খবর