অভিযুক্তদের হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ
এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলি, ২৮ ঘণ্টায়ও হয়নি মামলা
চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে ঢুকে দুর্বৃত্তের গুলির ঘটনায় প্রায় ২৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও থানায় কোনো মামলা রেকর্ড হয়নি। তবে, গুলির ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে অভিযানে নেমে বেশ কিছু ক্লু উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত বুধবার সন্ধ্যায় বায়েজিদ থানার চালিতাতলীর খন্দকারপাড়া এলাকায় গণসংযোগকালে এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হন। এই সময় তার সঙ্গে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী সরওয়ার হোসেন বাবলা গুলিতে নিহত হন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (উত্তর) উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনি গণসংযোগের সময় গুলির ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। পরিবার অভিযোগ দিলে আমরা মামলা হিসেবে রেকর্ড করবো। গোলাগুলির ঘটনায় অভিযুক্তদের ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। আমরা বেশ কিছু ক্লু উদ্ধার করতে পেরেছি। আশা করি আজকের মধ্যে ভালো খবর পাওয়া যাবে।’
তবে সরোয়ারের বাবা আবদুল কাদের জানান, আজকে রাতের মধ্যে তারা মামলা করবেন। সেজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, চিকিৎসা চলছে এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, বিএনপির প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় নাম আসার পর থেকে নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন এরশাদ উল্লাহ। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পাঁচলাইশের হামজার বাগ এলাকায় তার জনসংযোগ চলাকালে গুলির ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় এরশাদ উল্লাহকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে সরোয়ার নামে এক বিএনপিকর্মী নিহত ও শান্ত নামে অপর এক কর্মী আহত হন।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে গুলি চালিয়ে সরোয়ারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় প্রাইভেট কারে থাকা দুজন ঘটনাস্থলে মারা যান। সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান সরোয়ার। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিরা জবানবন্দিতে ও পুলিশকে জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের নির্দেশে সরোয়ারকে গুলি করা হয়।
ছোট সাজ্জাদ বিদেশে পলাতক শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলীর অনুসারী। একসময় সরোয়ার হোসেনও তাঁর অনুসারী ছিলেন। ২০১৫ সালের পর থেকে সরোয়ার তাঁদের কাছ থেকে সরে যান।
২০০০ সালের ১২ জুলাই বহদ্দারহাটে সন্ত্রাসী হামলায় ছয় ছাত্রলীগ কর্মীসহ আটজন নিহত হন। সে ঘটনায় করা মামলায় সাজ্জাদ আলী (বড় সাজ্জাদ) সাজাপ্রাপ্ত হলেও পরে উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান। এরপর তিনি বিদেশে পালিয়ে যান। তবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থামাননি। বিদেশ থেকে তাঁর বাহিনীর মাধ্যমে বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও ও হাটহাজারীতে অপরাধ পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন সাজ্জাদ হোসেন (ছোট সাজ্জাদ)।
সরোয়ার এক মাস আগে বিয়ে করেন। তাঁর বিয়েতে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশে যোগ দিতে দেখা যায় সরোয়ারকে।
চখ/ককন
