chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

কানুনগোপাড়ার ঐতিহাসিক দত্তবাড়িকে হেরিটেজ ঘোষণার দাবি

বোয়ালখালী উপজেলায় ঊনবিংশ শতকে শিক্ষার প্রসারে অনন্য অবদান রাখা ১১ ভাইয়ের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ‘দত্তবাড়িকে’ হেরিটেজ ঘোষণা করে সরকারিভাবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেস কানুনগোপাড়া একাদশরত্ন ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাইফুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি তুলে ধরা হয়েছে। পরিষদের দেওয়া স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় ‘কানুনগোপাড়া একাদশরত্ন ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ’র সংগঠক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও দৈনিক কালের কন্ঠের ব্যুরো প্রধান মুস্তফা নঈম, নাট্যজন সুদর্শন চক্রবর্তী, মো. ইকবাল, বাবুল রায় চৌধুরী, শিবাশীষ সেন, তুষার দত্ত এবং বিশ্বজিৎ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আঠারো শতকের শেষভাগে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কানুনগোপাড়া গ্রামে রসিক দত্ত ও মুক্তকেশী দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় ১১ ছেলে। তৎকালীন চট্টগ্রাম জেলা কালেক্টরেটের একজন নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারী রসিক দত্তের ১১ সন্তান প্রত্যেকেই নিজ মেধায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। বড় সন্তান রেবতীরমণ দত্ত বৃটিশ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

নিজেরা উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পর তাঁরা গ্রামে শিক্ষার আলো জ্বালানোর মহতী উদ্যোগ নেন। রেবতী রমণ দত্ত ১৯২৮ সালে কানুনগোপাড়া গ্রামে প্রথম মা মুক্তকেশীর নামে প্রতিষ্ঠা করেন মেয়েদের উচ্চ বিদ্যালয়। তাঁর ভাই ড. বিভূতি ভূষণ দত্তের নামে বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন পণ্ডিত স্যার আশুতোষ মুখার্জির নামানুসারে বৃটিশ বাংলার পল্লী অঞ্চলের প্রথম কলেজ ‘স্যার আশুতোষ কলেজ’, যা ১৯৮৯ সালে সরকারিকরণ করা হয়।

একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া ১১ জন সন্তানের এমন কীর্তিগাঁথা পুরো উপমহাদেশে বিরল ঘটনা উল্লেখ করে পরিষদের সংগঠকরা জেলা প্রশাসককে বলেন, ১১ রত্নের জন্মভিটাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে আলোকিত কীর্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হবে, এটা বোয়ালখালীবাসীর একান্ত প্রত্যাশা। সংরক্ষণের অভাবে চট্টগ্রামের এমন হাজারো ইতিহাস-ঐতিহ্য বিলীন হয়ে গেছে। ঐতিহ্যবাহী দত্ত বাড়িটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করে সরকারিভাবে সংরক্ষণ করার অনুরোধ করছি, যেন নতুন প্রজন্মের কাছে এটি স্মরণযোগ্য পীঠস্থান হয়ে থাকে।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, মৌখিকভাবে তথ্য পেয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দত্ত বাড়ি পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি আমরা আরও যাচাইবাছাই করছি। এরপর সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরকে আমরা নিয়মমাফিক অবহিত করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেব।

জেএফআই/চখ

এই বিভাগের আরও খবর