chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চকরিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় ১ মাসে ২৭ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের চকরিয়ায় গত ১মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার অংশে ৪৮ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে। চকরিয়ার অধীনস্থ ৪৮ কিলোমিটার সড়কের প্রায় অংশ আঁকাবাঁকা। ফলে বিভিন্ন যানবাহন প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার অসংখ্য যাত্রী ও পথচারীর মৃত্যু হচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান, চট্রগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কস্থ চকরিয়ার অংশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী। আরকান সড়কের চকরিয়া অংশে ৪৮কিলোমিটার এলাকায় আমরা প্রতিদিন কোন না কোন জায়গায় সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাই। এই মুহুর্তে চট্রগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কটি ৬লাইন করা দরকার।

স্থানীয়রা আরো জানান, চট্রগ্রাম – কক্সবাজার মহাসড়কটি ছয় লাইন না করা পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। এছাড়া সারাদেশ থেকে হাজার হাজার যানবাহন কক্সবাজার যাতায়াত করে। কিন্তু মহাসড়কটি দুই লাইন হওয়ায় যেমন তীব্র যানজট হয় তেমন সড়ক দুর্ঘটনার স্বীকারও হয়। তাই স্থানীয়দের দাবি হচ্ছে দ্রুত সময়ে চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি ছয় লাইনের উন্নীত করা। এছাড়া অনেক চালকগণ দ্রুত গতিতে বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চালায়, যা ট্রাফিক আইন অনুযায়ী অনেক অপরাধযোগ্য। তাই ট্রাফিক পুলিশদের যানবাহনগুলো নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

বিভিন্ন পরিবহনের চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চট্রগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রতিদিন লবণভর্তি ট্রাক বা কাভার্ডভ্যান চলাচল করে। মহাসড়ককে লবণের গাড়ি চলাচল করার কারণে রাস্তা ভিজে পিছলে যায়। ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বীকার হয়।

মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, গত একমাসে সড়ক দুর্ঘটনা আমার এরিয়াতে ১৬জন লোক মারা যায়। এছাড়া অনেক যাত্রী বা লোক গুরুতর আহত হয়। যারা সামান্য আহত হয় তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া যারা গুরুতর আহত হয়ে তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এছাড়া আমরা প্রতিনিয়ত সকল স্তরের যানবাহন চালকগণদেরকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য   বিভিন্ন নির্দেশনা থাকি।

চিরিংগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফুল আমিন বলেন, গত একমাসে আমার এরিয়ায় ১১জন যাত্রী মারা যায়। এছাড়া অসংখ্য যাত্রী আহত হয়। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সকল যানবাহন মালিকদেরকে চালকদের ব্যাপারে খোঁজ খবর রাখা দরকার। এছাড়া আমরা সকল যানবাহন চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকি।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার (৫নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় যাত্রীবাহী বাস মারসা পরিবহনের সাথে প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৫জন নিহত।

তাসু/চখ

এই বিভাগের আরও খবর