chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

উন্নয়ন বঞ্চিত দুই ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘশ্বাস

পেকুয়ায় মগনামা-উজানটিয়া সংযোগ সড়কের বেহাল দশা

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের মধ্যকার সংযোগ সড়কটি বছরের পর বছর সংস্কারবিহীন পড়ে থাকায় ভয়াবহ জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। একদিকে অর্থনৈতিক সংকট, অপরদিকে বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থাএই দুইয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলের হাজারো সাধারণ মানুষ, চাষি, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সংযোগ সড়কটির ২ কিলোমিটার এখন কেবল কাদা আর খানাখন্দের সমাহার। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না। চলাচলের অনুপযোগী এ সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বর্ষাকালে অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়—এক পশলা বৃষ্টিতেই রাস্তা হয়ে ওঠে জলাশয়।

মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়ন দুটি কক্সবাজার জেলার দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে রয়েছে শত শত একর লবণ ও চিংড়ি ঘের, কয়েকটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরনো বাণিজ্যিক হাটবাজার (কইডা বাজার), এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাব-মেরিন নৌ-ঘাঁটি (মগনামায়), যা স্থাপিত হয় ২০১৭ সালে।

এখানে উৎপাদিত মাছ, চিংড়ি ও লবণ সরবরাহ করা হয় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। অথচ এই সংযোগ সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা গুনছেন লাখ লাখ টাকার লোকসান। দীর্ঘপথ ঘুরে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।

শুধু ব্যবসায়ীরা নয়—দুর্ভোগের শিকার শিক্ষার্থীরাও। রাস্তার কারণে প্রতিদিন স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। অনেক সময় হেঁটে স্কুলে যেতে হয়, বিশেষ করে বর্ষায়। দুর্ভোগ থেকে বাদ যাচ্ছেন না রোগীরাও—জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স চলতে না পারায় ঘটছে বিপজ্জনক পরিস্থিতি।

স্থানীয় বাসিন্দা মৌলভী ওসমান বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হয়ে গেলেও আমরা এই এলাকায় একটি চলাচলযোগ্য রাস্তা পেলাম না। রাজস্ব দেই, ভোট দেই, অথচ নাগরিক অধিকার—একটি সড়ক—পাচ্ছি না। সরকার এত বড় সাব-মেরিন ঘাঁটি বানিয়েছে এই অঞ্চলে, অথচ ওই ঘাঁটিতে যাওয়ার সড়কটিই চলাচলের অযোগ্য।”

স্থানীয়দের মতে, প্রতি নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর এই সড়কটির কথা ভুলেই যান। অথচ এই একটি রাস্তাই দুই ইউনিয়নের একমাত্র সংযোগ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল শিরা।

এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) পেকুয়া উপজেলার সদ্য যোগদানকৃত প্রকৌশলী সৌরভ দাশ বলেন, “আমি মাত্রই যোগ দিয়েছি। এই রাস্তাটির বেহাল দশা সম্পর্কে এখনই জানলাম। আপাতত কোনো বরাদ্দ নেই, তবে আগামী বরাদ্দ এলেই এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

 

এদিকে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মঈনুল হোসেন চৌধুরী বলেন, “রাস্তাটির বিষয়ে কেউ লিখিতভাবে জানায়নি। তবে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তথ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় এক জরিপ অনুসারে, উজানটিয়া ও মগনামা ইউনিয়নে সরাসরি এ সড়কটির ওপর নির্ভরশীল প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে অন্তত ৫ হাজার দিনমজুর প্রতিদিন কাজে যান এই রাস্তা ব্যবহার করে। সড়কটি ব্যবহার করতে না পারায় বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়ে ফেলেছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে এলাকা ছাড়ছেন।

সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বছরের পর বছর কোনো কাজ না হওয়ায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—উন্নয়ন কি শুধু কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ?

চখ/ককন

এই বিভাগের আরও খবর