অক্টোবরের ‘হান্টারস মুন’, আকাশে জ্বলবে রক্তিম চাঁদ
প্রকৃতি যখন ধীরে ধীরে রঙ বদলাচ্ছে, ঠিক তখনই আকাশে উঠছে অক্টোবরের বিশেষ পূর্ণচন্দ্র ‘হান্টারস মুন’। নাসার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৬ অক্টোবর) রাতেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাবে এই মনোমুগ্ধকর পূর্ণচন্দ্র। এই বছর হান্টারস মুন শুধু পূর্ণিমাই নয়, বরং এটি একটি ‘সুপারমুন’। অর্থাৎ চাঁদ পৃথিবীর কক্ষপথে সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকবে, যার ফলে এটি স্বাভাবিকের চেয়ে ১৪ শতাংশ বড় ও ৩০ শতাংশ উজ্জ্বল দেখাবে।
কেন ‘হান্টারস মুন’?
‘দ্য ওল্ড ফার্মার্স অ্যালমানাক’ এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অক্টোবরের এই পূর্ণচন্দ্রের নাম ‘হান্টারস মুন’ রাখা হয় শিকারী মৌসুমের সূচনার প্রতীক হিসেবে। ফসল কাটা শেষে মাঠে পড়ে থাকা শস্যের টানে হরিণ, শেয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী বেরিয়ে আসত, ফলে শিকারিদের জন্য শিকারের সময়টা সহজ হতো। প্রাচীন আমেরিকান আদিবাসী ও ঔপনিবেশিক কৃষকদের জন্য এই সময় ছিল মাংস ও খাবার মজুদের সময়।
চাঁদের রক্তিম আভা এবং শরতের পাতার লালচে রঙের কারণে একে অনেকেই ‘ব্লাড মুন’ নামেও ডাকেন।
এই বছরের হান্টারস মুন উঠছে ‘অ্যারিজ’ (মেষ) রাশিতে। খ্যাতনামা সেলিব্রিটি জ্যোতিষী কাইল থমাস জানিয়েছেন, মেষ রাশি আগুনের প্রতীক, যা আত্মবিশ্বাস ও নতুন অভিযাত্রার প্রতীক। এই পূর্ণিমা আমাদের সাহসী হতে, নিজস্ব স্বপ্ন ও শক্তিকে চিনতে অনুপ্রাণিত করবে।
বহু সংস্কৃতিতে পূর্ণিমাকে ধরা হয় আত্মবিশ্লেষণ ও নতুন ইচ্ছা প্রকাশের সময় হিসেবে। থমাসের মতে, আগুন-রাশির এই চাঁদকে কাজে লাগাতে মোমবাতি জ্বালানো, ধূপ বা ঋষিপাতা পুড়িয়ে ধোঁয়া ছড়ানো এসব রীতি শক্তি ও ইতিবাচকতা বাড়ায়।
তার পরামর্শ, ‘আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন, এবং প্রতিদিন কিছু ছোট পদক্ষেপ নিন। প্রতিটি পদক্ষেপ আপনাকে স্বপ্নের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।‘
রাতের আকাশে যখন রক্তিম আলোয় ভেসে উঠবে ‘হান্টারস মুন’, তখন সেটি শুধু এক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য নয় বরং মানবজীবনের এক চিরন্তন প্রতীকের প্রকাশ এবং অন্ধকারের মধ্যেও আলো খুঁজে নেওয়ার আহ্বান।
মআ/চখ
