chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

নগরীর ২৯২ মণ্ডপে সাজ সাজ রব

রঙতুলির আঁচড়ে সেজে উঠছে দেবী দুর্গা

আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা, তারপরই শুরু হবে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের মতো চট্টগ্রাম নগরীতেও চলছে সাজসজ্জা আর প্রস্তুতির ব্যস্ততা। প্রতিটি মণ্ডপে এখন বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ, কোথাও রঙতুলির ছোঁয়ায় রাঙানো হচ্ছে  প্রতিমা, কোথাও চলছে আলোকসজ্জা ও প্যান্ডেল সাজানোর শেষ মুহূর্তের কাজ। একদিকে শিল্পীরা দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা নির্মাণে, অন্যদিকে আয়োজকরা তৎপর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজে।

আগামী রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবী দুর্গাকে বরণ করার আনুষ্ঠানিকতা। পরবর্তী দিনগুলোতে একে একে অনুষ্ঠিত হবে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও মহা-নবমীর পূজা। আর বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে এই মহা উৎসব। আনন্দ, ভক্তি আর মিলনমেলার আবহে বাঙালি হিন্দু সমাজে দুর্গাপূজা ইতোমধ্যেই বয়ে এনেছে উৎসবের রঙিন বার্তা।

নগরীর সদরঘাট, নটরাজ শিল্পালয়, স্বর্গীয় দুলাল পাল প্রতিমালয়সহ বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ স্থানে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। চলছে রঙতুলির আঁচড়।

সদরঘাটের প্রতিমা শিল্পী তপন পাল দৈনিক চট্টলার খবরকে বলেন,  আর বেশি দিন বাকি নেই পূজার, আমরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। প্রতিমাগুলো নতুন করে রং ও তুলির আঁচড় দিয়ে সাজিয়ে তুলছি। পূর্বে সম্পূর্ণ প্রতিমা তৈরি করা থেকে সাজানো পর্যন্ত খরচ হত ৭০/৮০ হাজার টাকা। এখন সংশ্লিষ্ঠ মালামালের দাম বৃদ্ধি,শিল্পীদের পারিশ্রমিক বাড়ার কারণে খরচ প্রায় দিগুণ। তবুও এই কাজ আমাদের করতেই হবে কারণ এটা আমাদের ধর্মীয় রীতিনীতি। শেষ মুহূর্তে দেবীকে পড়ানো হবে পোশাক-পরিচ্ছদসহ অন্যান্য আল্পনা।’

২০২৪ সালে মহানগরে সর্বমোট ২৭৪ টি মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হয়। গতবারের তুলনায় মণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে ২৯২ টি পূজো মণ্ডপে এবার পালিত হবে সর্বজনীন দুর্গোৎসব।

মোগলটুলি দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রবাল পাল বলেন, ‘এবছর আমাদের মণ্ডপে ‘তাতোয়া’ শিরোনামে পূজা উদযাপিত হবে। এই থিমটি তাঁত শিল্পীদের জীবন নিয়ে সাজানোর চেষ্টা করছি। তারা খুব অবহেলিত, তাদের হাতে তৈরি কাপড় কয়েক হাত বদল হয়ে নামীদামি মার্কেটে শোভা পায় এবং দামও বেড়ে। অথচ, তারা সেই কাজে যথাযত মূল্য পান না, বছরের পর বছর মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। যে বস্ত্র পরিধান করে আমাদের সম্ভ্রম রক্ষা হয়, সেই তাঁত শিল্পিরা আবহেলিত। সব মিলিয়ে আমরা এই ম্যাসেজটিই এবার ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।’

প্রশাসনের নজরদারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি থেকে আমাদের মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন, তাঁরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা জানিয়েছেন।’

এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজাকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নগরীর পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মন্দির কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন আনসার,পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা।

নিরাপত্তা ও পূজোর সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেড নিখিল কুমার নাথ দৈনিক চট্টলার খবরকে বলেন, ‘র‍্যাব,পুলিশ কমিশনার,সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সবার সাথে আমাদের ইতোমধ্যে বৈঠক হয়েছে, ওনারা আমাদের মণ্ডপগুলোর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। এছাড়া যেকোনো ধরণের নাশকতা মোকাবেলায় আমাদের নিজস্ব সেচ্ছাসেবক দল প্রত্যেক মণ্ডপে নিয়োজিত থাকবে।’

সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রতীক। পূজা উদযাপন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

চখ/ককন

এই বিভাগের আরও খবর