মহেশখালীতে হচ্ছে চতুর্থ ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল
দেশে গ্যাসের উৎপাদন দ্রুত কমতে থাকায় সরবরাহ সংকট মেটাতে চতুর্থ ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে। মহেশখালীতে এই টার্মিনালটি স্থাপনের জন্য স্থান চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
✔ পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টার্মিনাল স্থাপনের প্রাক অধ্যায়ন কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।
দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে, যা বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুদও ফুরিয়ে আসছে। একসময় যেখান থেকে দৈনিক ১ হাজার ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত, সেখানে উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে গত ৯ সেপ্টেম্বর ৮৯৫ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বলেন, “পেট্রোবাংলার অনেকেই মনে করেন, দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনে হঠাৎ ধস নামতে পারে। যদি সেই সতর্কবার্তা সত্যি হয়, তবে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দেশীয় উৎপাদন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে যেতে পারে। এই আশঙ্কা সত্যি হলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন হাজার মিলিয়নে নেমে আসবে। তাই বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।”
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগের সরকার তেল গ্যাস অনুসন্ধানের চেয়ে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আমদানি সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বাড়াতে কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে মহেশখালীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, পায়রায় আরেকটি ভাসমান টার্মিনাল এবং এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতার একটি স্থলভিত্তিক টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পেট্রোবাংলার লক্ষ্য, চলতি মাসের মাঝামাঝি চতুর্থ টার্মিনালের জন্য দরপত্র আহ্বান করা।
বর্তমানে দুটি ভাসমান টার্মিনালের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করেও দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। আমদানি বাড়াতে নতুন টার্মিনাল স্থাপন ছাড়া বিকল্প নেই।
একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে অন্তত ২৪ মাস এবং স্থলভিত্তিক টার্মিনাল তৈরিতে ৮০ মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। শুধু টার্মিনাল নয়, সরবরাহ বাড়াতে পাইপলাইন সক্ষমতা বৃদ্ধিও জরুরি।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনুমোদিত গ্রাহকদের জন্য দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে বাস্তব চাহিদা ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
◑ ফখ|চখ
