দাওয়াতে এসে অপহরণের শিকার: হাত-পা বাধা অবস্থায় ৫ জন উদ্ধার
টেকনাফে দাওয়াত দিয়ে এনে পাহাড়ে জিম্মি করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি এবং ৫দিন পর পুলিশ পাহাড়ি এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে হাত পা ও মুখ বাধা অবস্থায় নারী-পুরুষ ও শিশু সহ ৫ জন উদ্ধার করেছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে বাহারছড়া বড় ডেইল পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর টেকনাফ কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন জাহাজপুরা এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে রেখে দেওয়া হয়।
উদ্ধারকৃত ভিকটিমরা হলেন- আদনান (২১), মোঃ হাসেম (২২), রাফিয়া বেগম (৩০), আছমা আক্তার (১৪), সাইফুল ইসলাম (১০)।
অপহরণের শিকার আদনান এর চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বেলাল বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় আমার চাচার ভাড়াটিয়া রাফিনার দাওয়াতে আমার চাচাতো ভাই ভিকটিম মোঃ আদনান ও তার বন্ধু মোঃ হাশেম টেকনাফ বাহারছড়া শামলাপুর রাফিয়ার শ্বশুড় বাড়ীতে বেড়াতে যায়। যাওয়ার পর থেকে তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। দুইদিন পার হলেও বাড়িতে ফিরে না আসলে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করা হয়। ৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ অজ্ঞাত এক ব্যক্তির নাম্বার থেকে আদনানের পিতার মোবাইলে ফোন করে বলেন মোঃ আদনান ও তার বন্ধু মোঃ হাশেমকে অপহরণ করা হয়েছে। ২ নং আসামি ফয়সাল ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। টাকার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেন। মুক্তিপণের জন্য ফয়সালের কাছে ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং টাকা পাওয়ার সাথে সাথে মোবাইল ফোন বন্ধ করে ফেলে।
পরবর্তীতে বাহারছড়া জাহাজপুরা ভিকটিমদের খোঁজাখুজির একপর্যায়ে মুক্তিপণের টাকা দেওয়া ফয়সাল জানায়, ভিকটিমরা ১নং আসামি ইসমাইল এর বাড়িতে জিম্মি আছে। সেখানে খোঁজতে গেলে তাদের পাহাড়ি এলাকায় জিম্মি করে রেখেছে।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি যায়েদ নূরকে বিষয়টি জানানো হয় এবং তিনি একটি এজাহার দায়ের করতে বলেন। পরবর্তীতে তাৎক্ষণিক অবহৃত ভিকটিমদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যায়। ৯ সেপ্টেম্বর পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, অপহরণের শিকার আদনান এর চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা ৬ নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দার মোঃ ইসমাইল (৪৫), একই এলাকার আব্দুল হক মেম্বারের ছেলে মোঃ ফয়সাল (৩০) ও কামরুল এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ২৬।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) যায়েদ নূর বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর ভিকটিম মোঃ আদনান ও তার বন্ধু মোঃ হাশেম টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর রাফিয়া নামক এক মহিলার শ্বশুড় বাড়ীতে বেড়াতে এসে অপহরণের শিকার হয়েছে। বিষয়টি ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে জানার সাথে সাথে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শন দুর্জয় বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাত পা ও মুখ বাধা অবস্থায় অপহৃত ৫ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তাসু/চখ