chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

কর্ণফুলীতে স্ত্রীকে খুন করে স্বামীর আত্মহত্যার চেস্টা

চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর এলাকায় স্বামীর হাতে স্ত্রী নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। ঘটনার পর পরেই স্বামী নিজেই ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেস্টা করেন। পরে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার হয়।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর)সন্ধ্যা ছয়টায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার নুর হোসেনের বাড়িতে এঘটনা ঘটে।

নিহতের স্বজনরা জানান, ১৩ দিন আগে ৮ মাসের কন্যা সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে ফুফার বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন রেশমা। ২০২৪ সালে প্রেমের সম্পর্কে সিলেট এলাকার মোহাম্মদ ইব্রাহিম (১৯) সঙ্গে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৮ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত ২০ আগস্ট বুধবার স্বামী-সন্তানকে নিয়ে নিজের ফুফির ভাড়া বাসায় বেড়াতে আসেন বলে জানান নিহত স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রেশমী আক্তার রুমা (১৭) নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানার মো. ইউসুফের মেয়ে। স্বামী ইব্রাহীম (২০) অজ্ঞাত পিতার সন্তান হলেও তার বাড়ির বিস্তারিত ঠিকানা এখনও জানা যায়নি। দম্পতির কোলে রয়েছে মাত্র আট মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান।

নিহত রেশমীর ফুফু পেয়ারা বেগম জানান, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে রেশমী বাড়ি থেকে পালিয়ে ইব্রাহীমকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই তারা আত্মীয়-স্বজনের আড়ালে জীবনযাপন করছিলেন। প্রায় ৭–৮ দিন আগে তারা বেড়াতে আসেন চরপাথরঘাটার ভাড়া বাসায়। ঘটনার দিন বিকেলে শুঁটকি শুকানোর কাজ শেষে বাসায় ফিরে দরজায় ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়াশব্দ পাননি। পরে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে ডাকাডাকি করে শোরগোল করলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কয়েকজন লোক এসে ঘরের টিন খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন দেখা যায়, রেশমীর মরদেহ পড়ে আছে আর ইব্রাহীম ঝুলন্ত অবস্থায় অজ্ঞান হয়ে আছে।

খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ইব্রাহীমকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে প্রেরণ করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল হক বলেন, “আমরা ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের টিন কেটে ভেতরে ঢুকি। ভেতরে ঢুকে যে দৃশ্য দেখেছি তা সত্যিই হৃদয়বিদারক। রেশমীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে এবং ইব্রাহীম ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। আমরা দ্রুত তাকে নামিয়ে হাসপাতালে পাঠাই।”

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।”

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের শতাধিক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব বা অভিমান থেকেই এই নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে।

ফখ|চখ

এই বিভাগের আরও খবর