বাঁশখালী বিদ্যুৎ প্রকল্পের জেটিঘাটে নৌকা ভিড়তে বাঁধা, জেলেদের মানববন্ধন
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা এস এস পাওয়ার প্লান্টের পশ্চিম বড়ঘোনা জেটিঘাট দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জেলেদের কর্মব্যস্ততার প্রাণকেন্দ্র। প্রায় দুই থেকে আড়াই দশক ধরে এ জেটিঘাট থেকে তিন হাজারেরও বেশি জেলে নৌকা ও সাম্পান নিয়ে গভীর সাগরে মাছ আহরণে যান এবং জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি এস আলম গ্রুপের কয়লাবাহী লাইটার জাহাজ ভিড়ানোকে কেন্দ্র করে এ জেটিঘাটে জেলেদের জীবিকা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জাহাজের ধাক্কায় বসা জাল ছিঁড়ে যাওয়া, রাতের আঁধারে সাম্পানে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা ঘটার মতো ঘটনাও নিত্যদিনের হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় জেলেরা।
এই প্রেক্ষাপটে সোমবার সকালে গন্ডামারা পশ্চিম বড়ঘোনা জেটিঘাট এলাকায় মানববন্ধন করে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, জেটিঘাট থেকে মাছ ধরতে প্রতিদিন ২০-৩০ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। সাগর থেকে মাছ নিয়ে ফেরার সময় প্রকল্পের লোকজন মাছ দাবি করে, না দিলে নৌকা ভিড়তে দেওয়া হয় না। এতে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। এ ছাড়া ইলিশ মৌসুমে চার মাসব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল ভরসা এই ঘাট। কিন্তু নানা বাধার কারণে এখন এ অঞ্চলের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়ছে।
জেলেরা আরও বলেন, প্রকল্পের কারণে তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবিকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই অবিলম্বে নৌকা ও সাম্পান নিরাপদে ভিড়ার নিশ্চয়তা প্রদান এবং স্থানীয়দের জন্য এস আলম গ্রুপে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের ড্রেজিং কার্যক্রমের কারণে খাটখালি ঘাট ও জলকদর খালের নাব্যতা পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে মাছের ঘের ভরাট হয়ে প্রাকৃতিক মাছ আহরণের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। মাছ উৎপাদন কমে যাওয়ায় জেলেরা জীবিকা সংকটে পড়েছেন। পাশাপাশি রাতের আঁধারে কাঁদামাটি ও স্লাজ ফেলার কারণে কৃষিজমি ও লবণক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে জমি অনাবাদ্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে গন্ডামারা এস এস পাওয়ার প্লান্টের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “জেটিঘাট এলাকাটি প্রকল্পের নিজস্ব জায়গা। বর্তমানে ড্রেজিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। জেলেদের নৌকা ভিড়তে দিলে কয়লাবাহী লাইটার জাহাজে বিঘ্ন ঘটে। তাছাড়া অনেক সময় জাহাজে চুরি-ডাকাতির ঘটনাও ঘটে। প্রকল্পের নিরাপত্তা ও কাজের স্বার্থে ওই জেটিতে জাল বসানো বা নৌকা ভিড়ার অনুমতি নেই।”
এ সময় মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় জেলে তারেক, আতা উল্লাহ, হামিদুর রহমান, ইউপি সদস্য মো. জহির, শফিকুর রহমান, রবি, নেজাম, কলিম উল্লাহ, মোজাফ্ফর, নাছুসহ অর্ধশতাধিক জেলে।
তাসু/চখ