রপ্তানিতে প্রভাব পড়ার শঙ্কা
কনটেইনার পরিচালনার মাশুল বাড়ল ৫০ শতাংশ
রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার পরিচালনার মাশুল (কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ) ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। এতে রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
প্রায় দেড় মাস আগে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার হ্যান্ডেলিং চার্জ ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আবরারুল আলম বলেন, “নতুন সিদ্ধান্তে ২০ ফুট কনটেইনারের চার্জ ৬ হাজার ১৮৭ টাকা থেকে ৯ হাজার ৯০০ টাকা, ৪০ ফুট কনটেইনারের চার্জ ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৩ হাজার ২০০ টাকা এবং ৪৫ ফুট হাই-কিউব কনটেইনারের চার্জ ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৪ হাজার ৯০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।”
“দেশে জুলাই মাসে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি আনুমানিক ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ অথচ হ্যান্ডেলিং চার্জ ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং কিছু সেবায় কার্যত ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর চেষ্টা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক,” বলে মনে করেন তিনি।
আবরারুল আলম মতে, “খরচ বৃদ্ধির চাপ শেষ পর্যন্ত বিদেশি ক্রেতাদের ওপর যাবে এবং ক্রেতারা ভিয়েতনাম-চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী বাজারে সরে যেতে পারেন।
”মাশুল বাড়ানোর ফলে সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কিনা? জবাবে আবরারুল আলম বলেন, “বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসকে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে আবরারুল আলমের উত্থাপন করা দাবিগুলো হলো- চার্জ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং চার্জ বাড়ানোর বদলে সেবা-মান, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা উন্নয়ন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ রুহুল আমিন শিকদার বলেন,“অস্বাভাবিকভাবে নিচু রেটকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সেটি না করলে অপারেটরদের ব্যবসায়িক টেকসইতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রপ্তানিতে এক কনটেইনারে একাধিক শিপারের মাল থাকে। এজন্য পণ্য সাজানো, কর্মী নিয়োগ ও আলাদা গুদামজাতকরণ লাগে। যেগুলো আমদানি ক্ষেত্রে চাহিদা একই রকম নয়। তাই রপ্তানিকারকদের জন্য বর্তমান চার্জ অস্বাভাবিকভাবে কম।”
“বাস্তবে পরিবহন খরচ, গুদামজাতকরণ, কর্মী নিয়োগ ও জ্বালানি খরচ ইত্যাদি মিলে ২০-ফুট কনটেইনার ডিপো থেকে পোর্ট দেওয়া খরচই প্রায় রেটের গুণফলে বেশি। অতএব লং-টার্মে অপারেটরদের টেকসইতা নিশ্চিত করতে স্ট্যান্ডার্ডাইজড ও বাড়তি হার প্রয়োজন।
”রুহুল আমিন বলেন, “২০২০-২২ মেয়াদে জাহাজ রেট অনেকগুণ বেড়েছিল তখনও বিদেশি ক্রেতারা সেই বাড়তি খরচ বহন করে রপ্তানি গ্রহণ করেছিল। সুতরাং বর্তমান ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধিও ক্রেতা বহন করতে পারে, যদি প্রয়োজন মনে হয়।”
◑ ফখ|চখ
