chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ইলিশ নাগালছাড়া, দাম শুনে ফিরে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ক্রেতারা

ভরা মৌসুমেও বাজারে ইলিশ নেই তেমন। কিছু ইলিশের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতা। চট্টগ্রামের বাজারে এখনও দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। দাম চড়া। দরদাম বেশি হচ্ছে। বেচা–কেনা কম। হতাশ ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

এদিকে ইলিশের অতি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফিরিঙ্গিবাজার ফিসারিঘাট বাজার হচ্ছে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাইকারি মাছের বাজার, যেখান থেকে বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা মাছ কিনে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানেও ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া। একই অবস্থা দক্ষিণ কাট্টলী রাসমনি ঘাটের অবস্থা। সেখানেও ইলিশের দাম এখনো তেমন একটা কমেনি।

সাগর থেকে মাছ আহরণ করে ফিশিং বোটের জেলেরা নগরীর দক্ষিণ কাট্টলী সাগর পাড় এলাকায় রাসমনি ঘাটে পাইকারি দরে বিক্রি করে। এ ঘাটে প্রতিদিন পাইকারি মাছ নিলামে বিক্রি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর থাকে। তবে ইলিশ মৌসুম আসলে ক্রেতা-বিক্রেতার পদভারে বাজারটি আরো সরগরম হয়ে ওঠে। কিন্তু এ বছর ভরা মৌসুমেও এ ঘাটে ইলিশ আসছে কম। জেলেদের জালে ইলিশ কম পড়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে বেশিভাগ জেলে সমুদ্রে যেতে পারেনি। তাই বাজারে ইলিশ সরবরাহ খুবই কম ছিল। এখন আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলেও সাগরে ইলিশ মিলছে কম। তাই বাজারে ইলিশের দামও আকাশছোঁয়া। দাম দেখে অনেকেই ইলিশ না কিনেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

চাঁদপুরের জেলেরা বলেছেন, মেঘনায় প্রত্যাশিত পরিমাণে ইলিশ ধরা না পড়ায় বাজারে ইলিশ কম আসছে। চাহিদার তুলনায় মাছ কম আসায় দাম চড়া। এতে নিম্ন আয়ের ক্রেতা ও মধ্যবিত্তের পাতে জুটছে না ইলিশ। বেচাকেনা কম থাকায় বিক্রেতারা হতাশ।

মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, বর্জ্যের দূষণে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায়, খাদ্যশৃঙ্খল (ফুডচেইন) ভেঙে যাওয়ায় ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ইলিশের গতিমুখ বদলে যাচ্ছে। এ জন্য ভরা মৌসুমেও ইলিশের তেমন দেখা মিলছে না।

তবে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়লেও পরিবহন খরচ, ঘাটের দালালি আর পাইকারদের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণে দাম বাড়ছে হু হু করে

চট্টগ্রামের বাজারে  ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টাকা।৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১,৮০০ থেকে ২,২০০ টাকা। ১ কেজির বেশি বড় ইলিশ মিলছে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত।

ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, জেলেদের কাছ থেকে কম দামে মাছ কিনে আড়তদাররা বাজারে দাম দ্বিগুণ করে দিচ্ছে। এক ক্রেতা জানান, “ইলিশ না কিনে উপায় নেই, কিন্তু দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।”

অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, নদীতে ইলিশের জালে ওঠা কম। সরকারিভাবে নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় সরবরাহ কমেছে। ফলে বাজারে চাপ বেড়েছে।

বহদ্দারহাট বাজারে মাছ ব্যবসায়ী মো. মোসলেম বলেন, মাছের সরবরাহ বেড়েছে। তবে দামে তেমন পরিবর্তন নেই। ইলিশ ঘাটে উঠছে ভালোই, কিন্তু দামের কারণে কিনছেন না ব্যবসায়ীরা। ইলিশের দাম কমতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ইলিশের প্রধান মৌসুম শুরু হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে, তখন দামও কিছুটা কমতে পারে।

ফখ/চখ

এই বিভাগের আরও খবর