অক্সিজেন সংযোগ বিলম্বে ইমানুয়েল হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু
বান্দরবানে অক্সিজেন সংযোগে বিলম্বের কারণে ইমানুয়েল মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে রিমা ত্রিপুরা (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বান্দরবান ইমানুয়েল মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত রিমা ত্রিপুরা বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নের জর্দান পাড়ার এলাকার মইথেরা ত্রিপুরার স্ত্রী। রিমা ত্রিপুরা তিন সন্তানের জননী ছিলেন। তাঁর একটি ছয় মাস বয়সী দুধের শিশু রয়েছে।
মৃতের পরিবারের আত্নীয়রা জানায়, শুক্রবার রাতে শ্বাসকষ্ট ও মাথার সমস্যা নিয়ে রিমা ত্রিপুরাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার অক্সিজেন শেষ হয়ে গেলে স্বজনরা নার্স ও চিকিৎসকদের ডাকাডাকি করলেও দ্রুত কোনো সাড়া মেলেনি। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর নার্স এসে অক্সিজেন সংযোগ দেওয়ার পরেই মারা যায় বলে দাবি করেন।
হাসপাতালের কয়েকজন নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোগীকে সবসময় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল। তবে সিলিন্ডার শেষ হওয়ার পর প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট অক্সিজেন সংযোগ দিতে দেরি হয়। এই গাফিলতির কারণে এ অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
মৃতের ফুফাতো ভাই ইছাধন ত্রিপুরা জানান, “রোগীর প্রতি অবহেলা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কোনো মায়া ছিল না। যেভাবেই হোক এই ভুলের একটি ফয়সালা চাই। যেহেতু রোগী মারা গেছেন, তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাই আমার দাবি, এই ভুল স্বীকার করতে হবে। ভুলটি স্বীকার করে লিখিত বা ভিডিও আকারে একটি স্ট্যাটমেন্ট দিতে হবে। যদি সেই স্ট্যাটমেন্ট না দেওয়া হয়, তবে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।”
তিনি আরও জানান, দাবি উত্থাপনের পর কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে এবং বলেছে, “ঠিক আছে, আমরা স্বীকার করছি যে আমাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবার অবহেলা, দুর্বলতা এবং ম্যানেজমেন্টের সমস্যার কারণে এই মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। আমরা স্বীকার করছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর দ্বিতীয়বার ঘটবে না।”
এ ঘটনায় ইমানুয়েল মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারখুম লুসাই স্বাক্ষরিত এক লিখিত অঙ্গীকারনামায়ও হাসপাতালের ব্যর্থতা স্বীকার করেন। তবে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ওই অঙ্গীকারনামা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার গাফিলতিজনিত মৃত্যুর ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এর আগেও এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।
মৃত পরিবারের কাছে দেওয়া ‘অঙ্গীকারনামা’য় উল্লেখ করা হয়, “এই মর্মে দুঃখ ও শোক প্রকাশ করছি যে, অদ্য ২৩/০৮/২০২৫ খ্রিঃ তারিখ রোজ শনিবার, সময়- ১২:২০ ঘটিকায় অত্র প্রতিষ্ঠানে অক্সিজেন সংযোগ বিলম্বতার কারনে একজন মূমুর্ষ রোগীর মৃত্যু ঘটে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আমি আমাদের ব্যর্থতা স্বীকার করছি এবং আমি এ বিষয়ে ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার যেন পূনরাবৃত্তি না ঘটে এ ব্যপারে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করবো।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইমানুয়েল মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারখুম লুসাই বলেন, “আমাদের হাসপাতালে উপরতলায় রোগী বেশি, এবং প্রায় সব রোগীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। নিচতলা থেকে গ্যাস সিলিন্ডার উপরতলায় তোলার সময় ওই রোগীর মৃত্যু ঘটে। আসলে রোগীটি বাঁচার মতো অবস্থায় ছিলেন না। মানবিক কারণে আমরা তাকে ভর্তি নিয়েছিলাম। মৃত পরিবারের সন্তুষ্টির জন্যই আমরা অঙ্গীকারনামা দিয়েছি।
এছাড়া মৃত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই।” বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে বান্দরবান সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়নি। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ আকারে লিখিত আবেদন করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপরও আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি বলে জানিয়েছেন।
তাসু/চখ