chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

অনিয়মে জর্জরিত প্রাণি সম্পদের এলডিডিপি প্রকল্প

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর দেশের গবাদিপশু খামার উন্নয়ন ও প্রান্তিক খামারিদের সহায়তার জন্য প্রায় এক দশক আগে চালু করে লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (এলডিডিপি)। এই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের বিভিন্ন উপজেলায় খামারিদের দ্বারে দ্বারে ভেটেরিনারি চিকিৎসা পৌঁছে দিতে মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক (এমভিসি) চালু করা হয়। প্রকল্পের পরিকল্পনায় উল্লেখ ছিল—প্রাণীর টিকা, চিকিৎসা, প্রজননসহ খামার ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দেওয়া হবে খামারিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে। জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি গাড়ির চলাচল পর্যবেক্ষণেরও ব্যবস্থা রাখা হয়।

সরকারের উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতকে গতিশীল করা, দুধ-মাংস-ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনায়ন। কিন্তু বাস্তবে মাঠ পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।

চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি উপজেলার খামারিদের অভিযোগ, তারা এই প্রকল্পের প্রকৃত সেবা পাচ্ছেন না। এমভিসি গাড়ি মাঠে খামারিদের কাছে পৌঁছায় না, বরং ব্যবহার হচ্ছে অফিসারদের যাতায়াত কিংবা প্রশাসনিক কাজে। রাঙ্গুনিয়ার এক খামারি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “গরু অসুস্থ হলে হাসপাতালে ফোন দিয়েছিলাম। বলল গাড়ি ব্যস্ত আছে, নিজেই নিয়ে আসেন। অথচ এই গাড়ি তো আমাদের মতো খামারিদের জন্যই কেনা হয়েছিল।”

হাটহাজারীর খামারি রহিম উল্লাহ বলেন, “এখন মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক অফিসারদের গাড়ি হয়ে গেছে। মাঠে গিয়ে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা আর হয় না।”

প্রকল্পের আরও অনিয়মের মধ্যে রয়েছে—প্রশিক্ষণ কর্মশালার নামে কোটি টাকা খরচ দেখানো হলেও খামারিরা সেই প্রশিক্ষণের খবরই জানে না, বরাদ্দকৃত ওষুধ-টিকা সময়মতো পৌঁছায় না, অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়। আবার বরাদ্দের খাদ্য ও ওষুধ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত খামারে ব্যবহার হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, “ডেমো শেডসহ কিছু বিষয়ে অভিযোগ এসেছে, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। গাড়ির ব্যবহারের ওপরও তদারকি করা হচ্ছে।” তবে তিনি স্বীকার করেন, “ব্যক্তিগত ব্যবহার পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না।”

স্থানীয় খামারি ও সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এলডিডিপি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল খামারিদের জীবনমান উন্নয়ন ও প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রকল্পটিকে সেবামুখী উদ্যোগ থেকে সরিয়ে দিয়েছে কর্মকর্তাদের সুবিধা ভোগের মাধ্যমের দিকে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার বলেন, “এমভিসি দিয়ে আমরা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। তবে অফিসিয়াল কাজেও ব্যবহার হয়। কারণ, জেলার মিটিং বা অন্যান্য অফিসিয়াল কাজেও এই গাড়ি ব্যবহার করতে হয়।”

হাটহাজারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুজন কানুনগো বলেন, “সিরিয়াস সমস্যা হলে তবেই এমভিসি পাঠানো হয়। খরচের বিষয়ও বিবেচনা করতে হয়।”

চন্দনাইশের ডা. ফেরদৌসী আকতার জানান, “আমরা রিমোট এরিয়ায় সেবা দিই। তবে অফিসিয়াল কাজেও গাড়ি ব্যবহার করা হয়।”

এই বিভাগের আরও খবর