কিডনিতে পাথরের হার বাড়ছে যে ৭টি কারণে
বর্তমান যুগে প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে কিডনি স্টোনের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। পর্যাপ্ত পানি পান না করার কারণেও কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে। আর কিডনিতে পাথর হলে কতটা তীব্র যন্ত্রণা হতে পারে, তা শুধু যারা সয়ে গেছেন তারাই ভালো বোঝেন। অনেক সময় সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এ নিয়ে ভারতীয় ল্যাপারোস্কোপি সার্জন ‘উৎকর্ষ গুপ্ত’ বলেন, ‘খাদ্যাভ্যাসে কিছু সহজ পরিবর্তন করে এই কষ্টজনক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব’। কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় এমন খাদ্যাভ্যাস যেমন-
১. অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার
বাঁধাকপি, বিট, রাঙা আলু, ঢেঁড়শ ও বাদামের মতো খাবারে অক্সালেট বেশি থাকে যা ক্যালশিয়ামের সঙ্গে মিশে পাথর তৈরি করতে পারে।
২. অতিরিক্ত মাছ-মাংস খাওয়া
মুরগি, রেড মিট ও ফ্যাটযুক্ত মাছ অতিরিক্ত খেলে ইউরিক অ্যাসিড ও প্রস্রাবে ক্যালশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়, যা কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. বেশি পরিমাণে লবন গ্রহণ
লবণ মাখানো বাদাম, আচার, চিপস বা রেস্টুরেন্টের খাবারে অতিরিক্ত সোডিয়াম থাকে যা কিডনিকে বেশি ক্যালশিয়াম তৈরি করে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে।
৪. মিষ্টি পানীয়
কোক, ফলের রস ও এনার্জি ড্রিঙ্কে থাকা ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ ক্যালশিয়াম বাড়িয়ে কিডনিতে পাথরের তৈরি করে।
৫. ক্যাফেইন ও মদ্পান
চা, কফি বেশি খেলে শরীরের আর্দ্রতা কমে যায়। এমনকি মদ্যপানেও আর্দ্রতা কমে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে।
৬. অতিরিক্ত ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট
৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট অক্সালেট বৃদ্ধি করে এতে কিডনিতে পাথরের বৃদ্ধি হয়।
৭. কম পানি পান
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান না করলে স্টোনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে ২-৩ লিটার পানি খেলে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি অনেক কমে।
সুতরাং, কিডনিতে পাথরের থেকে বাঁচতে খাদ্যাভ্যাস ও পানীয়ের প্রতি সচেতন হওয়া খুব জরুরি। নিয়মিত পানি পান, ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যগ্রহণ এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলে কিডনি সুস্থ রাখা সম্ভব।
মআ/চখ
