chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

বদলে গেছে কর্ণফুলী নদী পারাপারের ১৫ নম্বর ঘাটের চিত্র

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম কর্ণফুলী টানেল চালু হওয়ার পর বদলে গেছে কর্ণফুলী নদী পারাপারের ১৫ নম্বর ঘাটের দৃশ্যপট। একসময় ভিড়, কােলাহল আর ব্যস্ততায় মুখর এ ঘাট এখন অনেকটাই ফাঁকা। ইঞ্জিনচালিত বােটগুলাে স্বাভাবিকভাবে চললেও আগের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে মাঝিদের বােট ছাড়তে হচ্ছে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে।

আগে প্রতি ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরপর বােট ছাড়ত, তাতেও থাকত ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী। এখন অনেক সময় অপেক্ষা করেও বােট ছাড়তে হচ্ছে মাত্র ২০-৩০ জন যাত্রী নিয়ে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনােয়ারা, কর্ণফুলী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, পটিয়া এলাকার বিদেশযাত্রী, শহরমুখী মানুষ, মেরিন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, কাফকাে, সিইউএফএল, কােরিয়ান কেইপিজেডসহ বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের হাজারও কর্মী প্রতিদিন এই ঘাট ব্যবহার করতেন।

দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিনচালিত বােট দিয়ে নদী পারাপার করতেন। ধারণক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ছিল নিয়মিত ঘটনা। এ সুযােগে ঘাটের ইজারাদাররা নিতেন বাড়তি ভাড়া।

কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি পতেঙ্গা প্রান্তে পৌঁছানাে যাচ্ছে স্বল্প খরচ ও অল্প সময়ে। ফলে নৌপথের ওপর নির্ভরশীলতা কমে গেছে। ১৫ নম্বর ঘাটে আর আগের মতাে যাত্রীদের ভিড় নেই, কােলাহল নেই।

চাকরিজীবী দিদারুল আলম বলেন, “আগে চাতরী চৌমুহনী থেকে ১৫ নম্বর ঘাটে  যেতে ভাড়া লাগত ৫৫ টাকা। এখন টানেল দিয়ে সরাসরি পতেঙ্গায় যাওয়া যায় মাত্র ৫০ টাকায়। ভাড়া কম, সময়ও বাঁচে।”

বিদেশগামী যাত্রীদর জন্য টানেল যেন আশীর্বাদ। মহেশখালীর বাসিন্দা মাহমুদ রফিক বলেন, ঘাট এখন অনকটাই ফাঁকা। আগে বিদেশ যেতে হলে নদী পারাপার অনেক সময় নষ্ট হতাে, এখন টানেল দিয়ে দ্রুত যাওয়া যায়।

টানেল চালুর পর শুধু যাত্রী নয়, পরিবহন ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাতরী চৌমুহনীর সিএনজি চালক মােহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, আগে সারাদিন যাত্রী নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হতাে। এখন যাত্রী কমে গেছে, এরকম অবস্থা আগে কখনাে দেখিনি।

ঘাটের বােট চালক ইউসুফ জানান, বর্তমানে যাত্রী প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। যাত্রী কম হওয়ায় আয়ও কমেছে। খরচ মেটাতে কষ্ট হচ্ছে। আগে যেখানে দিনে কয়েক দফায় বােট চালিয়ে ভালাে আয় হতাে, এখন অনেক সময় বােট দাঁড় করিয়ে রাখতে হয়।”

চট্টগ্রাম সিটি করপােরেশনের (চসিক) ১৫ নম্বর ঘাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি আবুল কালাম জানান, কর্ণফুলী টানেল চালুর আগে এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হতাে। আগে ঘাটে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতেন যাত্রীরা আর এখন যাত্রীর জন্য দীর্ঘ সময় ঘাটে নৌকাগুলােকে অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমানে এই ঘাট দিয়ে দৈনিক গড়ে এক হাজার মানুষ পারাপার হচ্ছে। তবে এখন ঘাটে মানুষের তেমন কােনাে ভােগান্তি নেই। নদী পারাপারের জন্য দুই শতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা আছে। এসব নৌকা এখন পর্যায়ক্রমে ভাগ করে চলাচল করছে।

আনায়ারা উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘ঘাটনির্ভর অনেক মানুষের জীবন-জীবিকায় প্রভাব পড়ায় বেকারত্ব বাড়তে পারে। যদি সুযােগ থাকে তাদের সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প পেশায় পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে।’

 

চখ/নফম

এই বিভাগের আরও খবর