chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

৩২০০ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্প

ফ্লাইওভার ও তিন সড়কে মেগা সম্প্রসারণে সিডিএ

নগরীর যানজট নিরসনে ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে একযোগে তিনটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—অক্সিজেন মোড়ে সাতমুখী ফ্লাইওভার নির্মাণ, বায়েজিদ থেকে কুয়াইশ পর্যন্ত সড়ক ৪ লেন থেকে ৬ লেনে উন্নীতকরণ এবং গোলপাহাড় মোড় থেকে চট্টেশ্বরী মোড় পর্যন্ত মেহেদীবাগ সড়ক ও লাভলেইন থেকে নন্দনকানন পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ। তিন প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম বলেন, বহুদিনের ভোগান্তি আর অচলাবস্থা দূর করতেই অক্সিজেন মোড়ে সাত পথের বিশাল ফ্লাইওভার, বায়েজিদ-কুয়াইশ সড়ককে ৬ লেনে উন্নীতকরণ এবং মেহেদীবাগ-নন্দনকানন সড়ক সম্প্রসারণ এই তিনটি যুগান্তকারী প্রকল্প হাতে নিয়েছি।

তিনি বলেন, এটি কেবল সড়ক নির্মাণ নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ নতুন নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ। প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইন্টারনেট, কেবলসহ সব ইউটিলিটি লাইন মাটির নিচে আরসিসি চ্যানেলে স্থানান্তর করা হবে। এতে শহরের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়বে এবং খোঁড়াখুঁড়ির স্থায়ী সমাধান হবে।

নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জটপ্রবণ এলাকা অক্সিজেন মোড়ে নির্মাণ করা হবে সাত পথবিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক ফ্লাইওভার। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহনের চাপ সামলাতে হিমশিম খাওয়া এই মোড়ে সাতটি দিক থেকে আসা যান চলাচলের জন্য থাকবে আলাদা র্যাম্প। সিডিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই ফ্লাইওভার শহরের উত্তরাঞ্চল থেকে কেন্দ্রস্থলে প্রবেশ সহজ করবে এবং যানবাহনের গতি বাড়াবে।
একই প্রকল্পের আওতায় বায়েজিদ থেকে কুয়াইশ পর্যন্ত সড়ক ৪ লেন থেকে ৬ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বে-টার্মিনাল, ফৌজদারহাট ও কুয়াইশ হয়ে শহরে প্রবেশের বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহৃত এই সড়কে যান চলাচলের চাপ দিনদিন বাড়ছে। ফলে সম্প্রসারণের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলে গতি ও সংযোগ দুটোই বাড়বে বলে মনে করছে সিডিএ। ইতোমধ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করে প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
সিডিএ আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এগুলো হলো—গোলপাহাড় মোড় থেকে চট্টেশ্বরী মোড় পর্যন্ত মেহেদীবাগ সড়ক এবং লাভলেইন থেকে নন্দনকানন পর্যন্ত সড়ক। এই দুই সড়ককে ৬০ ফুট প্রশস্ত করে চার লেনে উন্নীত করা হবে। প্রতিটি লেন হবে ১২ ফুট এবং মাঝখানে থাকবে মিডিয়ান, দুই পাশে থাকবে প্রশস্ত ফুটপাত। সড়ক সম্প্রসারণে কিছু ভবন ভাঙার পাশাপাশি বেশ কিছু ভূমি হুকুম দখলের প্রয়োজন হবে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—এই দুটি সড়কে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির লাইন, ইন্টারনেট, ডিসসহ সব ধরনের ইউটিলিটি লাইন আরসিসি চ্যানেলের মাধ্যমে মাটির নিচে নেওয়া হবে। এর ফলে যেমন শহরের সৌন্দর্য বাড়বে, তেমনি খোঁড়াখুঁড়ির ঝামেলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমে আসবে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। ইতোমধ্যে প্রাথমিক নকশা এবং যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস জানান, “এই তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরীর যান চলাচলে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে অক্সিজেন মোড়ের যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। আমরা নগরবাসীকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট নগরী উপহার দিতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “এই প্রথম আমরা সব ইউটিলিটি লাইন আরসিসি আন্ডারগ্রাউন্ড চ্যানেলে নিচে ফেলছি। এতে শুধু দৃষ্টিনন্দন পরিবেশই নয়, দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও কমে আসবে।”
নগর পরিকল্পনাবিদ ও ট্রাফিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিকল্প রুট ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো সঠিকভাবে সমাধান করা গেলে এসব উদ্যোগ চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে।

ফখ|চখ

এই বিভাগের আরও খবর