chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ মন্ত্রীর পদত্যাগ

যুক্তরাজ্যের গৃহহীনতা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলি পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার ডাউনিং স্ট্রিট তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পূর্ব লন্ডনে তার মালিকানাধীন একটি বাড়ির ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি’র অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গৃহহীনতা বিষয়ক দাতব্য সংস্থা ও বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত পদ ছাড়লেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে রুশনারা আলি লেখেন, “সবসময় প্রযোজ্য আইন মেনেই কাজ করেছি এবং দায়িত্বকে গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেছি। তবে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ বিঘ্নিত হবে। তাই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যখন তিনি ভাড়াটিয়াদের চুক্তি বাতিল করে বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে তোলেন, কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই তা আগের চেয়ে মাসে ৭০০ পাউন্ড বেশি ভাড়ায় পুনরায় তালিকাভুক্ত করেন।

অথচ তার মন্ত্রণালয় বর্তমানে যে ‘রেন্টার্স রাইটস বিল’ সংসদে উত্থাপন করেছে, সেটি আইন হলে এ ধরনের পদক্ষেপ নিষিদ্ধ হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আই পেপার জানিয়েছে, গত নভেম্বর মাসে এক সাবেক ভাড়াটিয়াকে চার মাসের নোটিশ দিয়ে জানানো হয়, চুক্তি নবায়ন হবে না। এরপর ভাড়াটিয়ারা সরে গেলে বাড়িটি বেশি ভাড়ায় ভাড়া দেওয়ার জন্য তালিকাভুক্ত হয়।

রুশনারা আলির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, প্রথমে বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে তোলায় চুক্তি শেষ করা হয় এবং ভাড়াটিয়াদের অস্থায়ী ভিত্তিতে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা চলে যেতে পছন্দ করেন। বিক্রির জন্য ৯ লাখ ১৪ হাজার ৯৯৫ পাউন্ড চাওয়া হলেও ফেব্রুয়ারিতে দাম ২০ হাজার পাউন্ড কমানো হয়। বিক্রি না হওয়ায় সেটি আবার ভাড়ার জন্য তোলা হয়।

লন্ডন রেন্টার্স ইউনিয়ন রুশনারা আলির পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে।

রেন্টার্স রিফর্ম কোয়ালিশনও তার পদত্যাগকে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছে। বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হোলিনরেক একে ‘চমকপ্রদ ভণ্ডামি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রুশনারা আলির কাজের প্রশংসা করে বলেন, তিনি সংসদের পিছনের সারি থেকে সরকারের কাজে সহায়তা করবেন এবং বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনির জনগণের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাবেন।

এটি স্টারমার সরকারের ষষ্ঠ পদত্যাগ। সংখ্যার দিক থেকে বড় কোনো সংকট না হলেও বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফখ|চখ

এই বিভাগের আরও খবর