আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার সড়কের ভয়াল অবস্থা
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল এলাকার রাস্তা যেন পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি এখানকার নিত্যদিনের সঙ্গী। এলাকার স্থানীয় মানুষসহ অফিস গামি মানুষেরা প্রতিদিনই সড়কটি ব্যবহার করেন , তবে তাদের ভোগান্তির নীরব আত্মচিৎকার শুনছেন না দায়িত্বরত কর্মকর্তাগণ।
আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শাখাসহ আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে এই জায়গায়। এছাড়াও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও ২০০০০ হাজার এর উপর চাকুরীজীবী ও স্থানীয় মানুষ প্রতিদিনই ব্যবহার করেন এই সড়ক। তবে সড়ক এর চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটি ব্যবহারের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটিতে প্রতিনিয়তই জোয়ারের পানি জমে থাকে, নেই কোনো পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। এলাকার মানুষের অসচেতনতা ও অবৈধভাবে সড়ক দখল করা যেন মরার উপর ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়কে।

বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত নাসরিন সুলতানা চট্টলার খবরকে বলেন – ‘ আমি প্রতিদিনই এই সড়ক ব্যবহার করে অফিসে আসি। সড়কের এই বেহাল অবস্থার কারণে রিক্সাও আসতে চায় না, পায় হেঁটে আসার ও কোনো অবস্থা নেই, আমাদের জনগণের দুর্ভোগ কখনোই কমবে না ।‘
সিটি কর্পোরেশন সাময়িক মেরামতের কিছু উদ্যোগ নিলেও সেগুলোর অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। ধীরগতির সংস্কারকাজে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের। অথচ আগ্রাবাদ অঞ্চলটি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান কার্যালয় এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার শাখা অবস্থিত। ফলে শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতেও এই সড়কের উন্নয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

সড়কের পাশেই দোকান নিয়ে ব্যবসা করেন বেলাল আকবর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে চট্টলার খবরকে তিনি বলেন –‘ব্যবসা আগের থেইকা অহন অনেক মন্দা, ভাঙ্গা রাস্তা আর রাস্তার পানির কারণে আগের মতন কাস্টমার নাই, দোকান ভাড়া কেমনে দিমু, পোলা মাইয়ারে কি খাওয়ামু।‘
রাস্তার বেহাল দশার পরই সন্ধ্যা হলেই যেন দুর্ভোগ নেমে আসে এই এলাকায়। যত্র তত্র গাড়ি রিক্সা , সি এন জি পার্কিং ও হকারদের সড়ক দখল করে ব্যবসা যেন দীর্ঘশ্বাসে রূপ নিয়েছে সাধারণ মানুষের। সাধারণ মানুষের মতে – জন ভোগান্তির রূপ কতটা ভয়ঙ্কর হলে টনক নড়বে কর্তৃপক্ষের ?
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ তহিদুল ইসলাম জানান, বর্ষা মৌসুমে বিটুমিন বা পিচ ঢালাইয়ের মতো টেকসই সড়ক মেরামতের কাজ কার্যত অসম্ভব। টানা বৃষ্টির মধ্যে এমন কাজ করলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না বরং দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে পুরোপুরি সংস্কারের কাজ এখন শুরু করা যাচ্ছে না। তবে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং জনদুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করতে অস্থায়ীভাবে যেসব মেরামত সম্ভব, সেগুলোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
চখ/নফম
