chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টি, ডুবেছে নিচু এলাকা, দুর্ভোগ

চট্টগ্রাম নগরীতে রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি শুরুর পর আধা ঘণ্টার মধ্যে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অভিভাবক, চাকরিজীবী, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এই বৃষ্টিতে নগরের চকবাজার, ষোলশহর, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, শুলকবহর, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, ডিসি সড়ক, পাঠানটুলী, কালা মিয়া বাজার, বাকলিয়া, ছোটপুল, বড়পোল, আগ্রাবাদ বেপারি পাড়া, মহুরিপাড়া, সিডিএ আবাসিক, আতুরার ডিপো, চকবাজারসহ এলাকায় পানি জমে যায়। বিভিন্ন এলাকার কোথাও গোড়ালি সমান আবার কোথাও কোথাও হাঁটু পর্যন্ত পানি উঠেছে সড়কে।

স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন এলাকার খালে কাজ চলমান থাকায় নালার পানি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টি ছাড়াও অনেক অলিগলিতে পানি জমে আছে। এতে লোকজন দুর্ভোগে পড়েছে।

এদিকে বাড়তি ভাড়া দিয়ে অনেকে রিকশায় চলাচল করছে। বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তা রাস্তা ও অলিগলিতে জমে যায়। নগরের চকবাজার, বাদুড়তলা, কাপাসগোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় গোড়ালি থেকে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এভাবে জলাবদ্ধতা হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। বিশেষ করে সকালে অফিসগামী লোকদের ভোগান্তি ছিল বেশি।

সুমাইয়া তাবাচ্ছুম নামের এক গণমাধ্যম কর্মী জানান, সকাল ৯টায় অফিসের যাওয়ার জন্য বের হয়েছেন বাসা থেকে নিচে নিমে দেখেন বাসায় নিচের তলায় পানি জমে আছে। বাস্তায় কোমর পর্যন্ত পানি। নিরুপায় হয়ে অফিসের কাজ বাসা থেকে করছেন।

রাজাখালীর বাসিন্দা আহমদ নূর বলেন, বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে এলাকার রাস্তাঘাট। সকালে বাসা থেকে বের হয়েই পড়েছি বিপাকে।

কাজীর দেউরির বাসিন্দা আনিকা বন্দরটিলার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সকালে বৃষ্টি থাকায় অফিস যেতে দেরি হয়েছে তার।

“বাসা থেকে বের হয়ে বাস কাজীর দেউরি মোড় পর্যন্ত আসতে কিছুটা ভিজেছি। এরপর বাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতেই অর্ধেক ভিজে গেছি। এমন বৃষ্টি, ছাতা মানছিল না। গাড়িতে উঠাও কষ্টকর ছিল। পানি ছিটায় প্যান্টও ভিজে গেছে। এখন বেশ ঠাণ্ডা লাগছে। অফিসে কাজ করার জন্য বসতেও পারছি না।”

বহদ্দারহাটের বাসিন্দা কাজী নজরুল বলেন, “সকাল থেকে বৃষ্টি হওয়ায় বাসা থেকে বের হতে পারছিলাম না। আমাদের এলাকায় বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে, আজও জমেছে। তবে তা বেশিক্ষণ থাকেনি।”

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ  বলেন, ‘আজ রাত পর্যন্ত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ভারি বৃষ্টিপাতের তেমন সম্ভাবনা নেই। তবে অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ পরিস্থিতি আগামীকালও থাকবে এবং পরেরদিনও থাকতে পারে।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি কম। যে কারণে কয়েক বছর ধরে কাজ চললেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না নগরবাসী।

◑ ফখ|তাসু| চখ

এই বিভাগের আরও খবর