chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চুয়েটে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের জন্য নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়।

প্রথম ধাপে পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, স্থাপত্য, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং, মেকাট্রনিক্স ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল, পানিসম্পদ কৌশল এবং ম্যাটেরিয়ালস ও মেটালার্জি বিভাগের শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়। পরবর্তী ধাপে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, ইলেকট্রনিক্স ও টেলিকমিউনিকেশন এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছিলো আনন্দঘন পরিবেশ ও উৎসবের আমেজ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। তিনি নবীনদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুক্তচিন্তা বিকাশের ক্ষেত্র। বিদ্যা চর্চা ও গবেষণার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্ঞান ও প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়। এসব গবেষণালব্দ জ্ঞান ও প্রযুক্তি মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমগ্র বিশ্বের সম্পদে পরিণত হয়। যার ফলে পৃথিবী আরো উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। আমরা আমাদের দেশকে সারা বিশ্বে মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চার মধ্যে দিয়ে এই দেশ এবং জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স (এআই) এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একইসাথে, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কর্মক্ষেত্র উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের দরকার একদল যোগ্য সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মেধাবী ইঞ্জিনিয়ার। এ দেশের মানুষ আজ মেধাবী নতুন প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে আছে। তারাই পারবে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আগামী দিনের উন্নত এক বাংলাদেশ গড়তে। মানুষের সেই আশা পূরণ করার জন্য নতুন প্রজন্মকে সৎচরিত্রের অধিকারী হতে হবে। লালন করতে হবে নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম। ইতিবাচক মানসিকতায় নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে। চিন্তা-চেতনায় বড় থাকতে হবে। আমার বিশ্বাস তোমাদের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে উন্নত বাংলাদেশ।

কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সকল অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, রেজিস্ট্রার, ছাত্রকল্যাণ পরিচালক, প্রক্টর, শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ, যাঁরা নবীন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং ভবিষ্যৎ যাত্রার জন্য দিকনির্দেশনা দেন।

কেন্দ্রীয় সেশনের পর শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিভাগে যান, যেখানে আয়োজন করা হয় বিভাগভিত্তিক পরিচিতি ও নির্দেশনা সেশন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, সিনিয়র শিক্ষার্থীরা এবং বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের নবাগত শিক্ষার্থী অর্ণব লস্কর জয় তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, আজকের দিনটা আমার জন্য খুবই স্মরণীয়। এত বড় প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পেয়ে নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। যদিও অনেক গরম পড়ছে, তবুও সবকিছু ভালো লাগছে। নতুন বন্ধু হবে, নতুন জীবন শুরু হলো, সব মিলিয়ে দারুণ লাগছে।

কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের নবাগত শিক্ষার্থী উম্মে সালমা ফারিহা বলেন, আমার সবসময়ই সিএসই-তে পড়ার ইচ্ছে ছিল, আর এখানে এসে সিএসই-তেই চান্স পেয়েছি—এই জন্য আমি খুবই খুশি। ক্যাম্পাসটা সত্যিই অসাধারণ, এতটা সুন্দর পরিবেশ কল্পনাও করিনি। এখানে এসে বুঝলাম কেন একে ‘গ্রিন হেভেন’ বলা হয়। আতিথেয়তা ছিল প্রশংসনীয়, সিনিয়র আপুরা শুরু থেকেই অনেক হেল্প করছেন। আশা করি সামনে এখানে দারুণ সময় কাটবে।

নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য বিভাগীয় পরিচিতি, নিয়মাবলী বিষয়ক আলোচনা, ক্যাম্পাস ঘুরে দেখানো এবং সিনিয়রদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য ছিল মূল আয়োজনের অংশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবীনদের হাতে পরিচিতিমূলক হ্যান্ডবুকও তুলে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১লা ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত চুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মোট ২০ হাজার ১২২ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্য থেকে কঠোর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মোট ৯৩১ জন শিক্ষার্থী চুয়েটের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ অর্জন করে।

জেএফআই/চখ

এই বিভাগের আরও খবর