চট্টগ্রামে চাল নিয়ে সিন্ডিকেটের চালবাজি
বিশ্ববাজারে চালের দাম কমতির দিকে থাকলেও চট্টগ্রামের বাজারে উল্টো চিত্র, চালের দাম বেড়েই চলেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে, জুন মাসে বিশ্ববাজারে চালের চাহিদা কমায় দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। তবে বাংলাদেশে একই সময়ে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৭ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত।
চালের দাম বাড়ার বিষয়ে পাইকারি বিক্রেতারা জানান, চালের বাজার অস্থির করার ক্ষেত্রে চালকল মালিক (মিলার) ও আড়তদাররা বেশি দায়ী। মিলার ও আড়তদাররা বাজারে ধীরে ধীরে চাল ছাড়ছেন। ফলে চাহিদার চেয়ে যোগান কমে যায়। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। এ কারণে চালের দাম বাড়ছে।
পাহাড়তলি বাজার বণিক সমিতির সহসভাপতি জাফর আলম বলেন, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল মজুত আছে। এছাড়া প্রতিটি চালকলেও মজুত অনেক। ফলে দাম বাড়ার কোনও কারণ নেই। দাম বাড়ার জন্য প্রকৃত দায়ীদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের খাদ্য পরিদর্শক (কারিগরি) ফখরুল আলম বলেন, চট্টগ্রামে ধানি জমি কমছে ক্রমেই। বাড়ছে বসতি ও শিল্প-কারখানা। এতে চাল সংকট এলাকায় পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। ফলে বিভিন্ন দেশ ও উত্তরবঙ্গ থেকে চাল এনে এই খাদ্য সংকট পূরণ করা হয়।
আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চাল সরবরাহে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন উত্তরবঙ্গের চাল ব্যবসায়ীরা। তারা সারাদেশে একদামে চাল সরবরাহ করলেও চট্টগ্রামে সরবরাহ করে ভিন্নদামে। ফলে পুরো দেশের তুলনায় চট্টগ্রামে চালের দাম সবসময় বেশি থাকে।
সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অবিলম্বে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি তোলা হয়েছে চট্টগ্রামের এক কর্মসূচি থেকে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে ‘ভাতের পাতে স্বস্তি ফেরাও’ স্লোগানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবসহ চারটি সংগঠন।
‘চালের মূল্য বৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের বাজারে কারসাজি ও কৃত্রিম সংকট বন্ধের দাবিতে’ এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
ক্যাব এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “চালের কোন সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুদ আছে। এটা হলো সিন্ডিকেটের কারসাজি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলে এসেছি। কিন্তু সিন্ডিকেট ভাঙতে পারিনি। তখন সরকারের আন্তরিকতা ছিল না, সরকার সিন্ডিকেট ভাঙেনি।
“এখন পর্যাপ্ত চালের মজুদ আছে। আমদানিও প্রচুর আছে। তারপরেও চালের দাম, তারা কিন্তু প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে যাচ্ছে। চালের বাজার কোনো সময় তদারকির মধ্যে থাকে না। যখনই এরকম দাম বাড়ে খুচরা কয়েকটা দোকানে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসন গিয়ে একটু করে জরিমানা করে। তারপরে শেষ।”
