ভূমি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুসের লেনদেন, ভিডিও ভাইরাল
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট পেশকার সুদীপ্ত দাশের প্রকাশ্যে ঘুস লেনদেনের একটি ভিডিও নিয়ে তোলপাড় চলছে।
” মাত্র ৪ সেকেন্ডের এ ভিডিওতে দেখা যায়, পটিয়ার ছাপুড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দালাল সুমন ঘোষ ভুমি অফিসের খাচারি ঘরে পেশকার সুদীপ্ত দাশের হাতে এক বান্ডিল ১ হাজার টাকার নোট দিচ্ছিলেন। এসময় সুদীণ্ড বলে উঠছিল কম হচ্ছে না। জবাবে সুমন বলেন-দাদা অনে যে ভর চাইয়্যুন এ ভর দেই’ (আপনি যে পরিমাণ চেয়েছেন-সেই পরিমান টাকা দিয়েছি)। এসময় অফিস সহায়ক জহির বলে উঠেন- তার (সুমন) কাছে আমি এক বছর আগের টাকাও পাব।”

◑ সুদীপ্ত দাশকে প্রকাশ্যে ঘুস দিচ্ছেন দালাল সুমন ঘোষ।
প্রকাশ্যে ঘুস লেনদেনের ভিভিওটি ভাইরাল হওয়ার পর চলতি সপ্তাহে পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও পটিয়ার ইউএনও’র কার্যালয়ে এক শুনানি হয়। এতে টাকাগুলো ঘুসের নয় বলে সুদীপ্ত দাবি করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২ সালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার তদবীরে পটিয়া ভূমি অফিসে যোগদান করেন সার্টিফিকেট পেশকার সুদীপ্ত দাশ। পটিয়ায় যোগদানের পর থেকেই তিনি তার অফিস কক্ষের বাইরে অফিস সহকারির অফিসে বসে প্রকাশ্যে ঘুস লেনদেন করেন। অভিযোগ উঠেছে-ঘুষ ছাড়া সেবা মেলে না তার কাছে। ভূূমিহীনদের মাঝে কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত, খতিয়ানের ভুল সংশোধন, নামজারি ও জমাভাগ, ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণীর আপত্তি-নিষ্পত্তি, দেওয়ানি আদালতের রায় বা আদেশমূলে রেকর্ড সংশোধন, ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদন নিষ্পত্তি, জমা একত্রকরণ ও বিবিধ মামলার আদেশের নকল বা সার্টিফায়েড কপি প্রদানের জন্য দালালদের সাথে সখ্যতা রেখে সে মোট অংকের ঘুস নিয়ে থাকেন।
সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে দালালেরা যে টাকা নেন, তা ভাগ-বাঁটোয়ারাও হয় তার মাধ্যমে। এছাড়া কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তাকে টাকা দেওয়া ছাড়া ফাইল সহকারী কমিশনারের (ভূমি) টেবিলে পৌঁছায় না। কাগজপত্রে গরমিল থাকলে গুনতে হয় কয়েকগুণ বেশি টাকা।

◑ শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির সাথে ছবি তুলে ফেইসবুক ওয়ালে নিজের ছবি দিতে স্বচ্ছন্দবোধ করতেন সুদীপ্ত।
ভূমি অফিসের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে অনলাইনে সেবা চালু করেছে সরকার। এর মধ্যে জমির নামজারি, খাজনা, লীজ নবায়ন (ভিপি) ও মিসকেস সেবা অন্যতম। এরমধ্যে নামজারি, মামলা খারিজ, খাজনা ও রাজস্ব বাবদ ১১৭০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে আদায় করতে হয়।
সার্টিফিকেট পেশকার সুদীপ্ত দাশের ঘুস লেনদেনের ভিডিও প্রসঙ্গে পটিয়া ভূমি অফিসের নাজির হামিদুর রহমান বলেন, লীজ নবায়নের টাকা নাজিরের মাধ্যমে হাতে হাতে নেয়ার সুযোগ রয়েছে। পরে ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারের কাছে জমা দিতে হয়। তবে সার্টিফিকেট পেশকারের কোন ভাবেই অফিসিয়াল টাকা লেনদেনে জড়িত থাকার সুযোগ নেই। ভিডিওটি দেখেছি। কিসের টাকা বলতে পারছি না।
ঘুস লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল প্রসঙ্গে সুদীপ্ত দাশ বলেন, টাকাগুলো লীজ নবায়নের ফি। সুমনের (দালাল) কাছ থেকে গুণে নিচ্ছিলাম। তিনি লীজ নবায়নের ফি নিতে পারেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমিতো প্রায় সময় ভিপির টাকা কালেকশন করি। দালালের মাধ্যমে কেন টাকা নেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন ‘এটা ভুল হয়ে গেছে।’
সুদীপ্তের সাথে ঘুস লেনদেনকারী সুমন ঘোষের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লেনদেনের ৭ হাজার টাকা আমার একজন গ্রাহকের একটি লীজ নবায়ন মামলার ফি ছিল। সুদীপ্ত দাদাকে দিয়েছি। মামলাকারীরা না দিয়ে আপনি দেয়ার কে এবং কত নম্বর মামলা প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
সুমন ঘোষ নিজেকে ছাপুড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অস্থায়ী কর্মচারি পরিচয় দিয়ে থাকেন। এ প্রসঙ্গে ওই অফিসের তইশিলদার আকতার কামাল চৌধুরী বলেন, আমার অফিসে সুমন ঘোষ নামের কেউ নেই। সে এক সময় দালাল হিসেবে কাজ করতো। আমি সেখানে যোগদানের পর অফিসের কাছেও ভিড়তে পারে না।
◑ ফখ|চখ
