থমকে আছে কক্সবাজারের খুরুশকুলে শুঁটকি জোনের কাজ রাশেদুল ইসলাম, কক্সবাজার প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৫ ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ Share FacebookTwitterWhatsAppPrintEmail ফটোকার্ড ডাউনলোড করুন কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে লক্ষ্যে বিমানবন্দরের আশপাশের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সরকারি খাসজমিতে বসবাসরত বাসিন্দাদের স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়। ওই এলাকায় বসবাসরত ৪ হাজার ৬০৯টি পরিবারকে সরিয়ে নিয়ে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে পুনর্বাসনের পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য ‘কক্সবাজার জেলায় শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে থমকে আছে প্রকল্পটি।জানা গেছে, ২০২১ সালে ১৯৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)। প্রকল্পের আওতায় একটি শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও বিক্রয় কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। যেখানে শুঁটকি উৎপাদন ও বিক্রয়ের মাধ্যমে ৪ হাজার ৬০৯টি পরিবারের জীবিকা উপার্জন নিশ্চিত হবে। আরও পড়ুন মানবতার সেবায় রেড ক্রিসেন্টের ভূমিকা অনন্য: মীর হেলাল প্রকল্পের প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে, ২ হাজার ৫০০ বর্গমিটার আয়তনের অবতরণ শেড নির্মাণ, ১ হাজার ৮৬০ বর্গমিটার আয়তনের চারতলাবিশিষ্ট ল্যাব, অফিস, প্রশিক্ষণকেন্দ্র কাম ডরমেটরি নির্মাণ, ১০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন কোল্ড স্টোরেজ (৪ চেম্বারবিশিষ্ট) নির্মাণ। এছাড়াও ২টি ওয়ে ব্রিজ এবং ৩টি পন্টুন বা গ্যাংওয়ে তৈরি, ৩৫০টি বিএফআরআই ফিশ মেকানিক্যাল ড্রায়ার এবং ৩০টি মেকানিক্যাল ড্রায়ার স্থাপন, ৩৬টি শুঁটকি বিক্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, ১০টি টয়লেট জোন নির্মাণ, প্যাকেজিং ফ্যাক্টরি স্থাপন, ইটিপি, এসটিপি ও ডব্লিউটিপি নির্মাণ, ৩টি জেনারেটরসহ ১টি বৈদ্যুতিক সাবষ্টেশন স্থাপন ও ৩টি আরসিসি জেটি নির্মাণ করা।◑ প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে খুরুশকুলের আশ্রয়ণে পুনর্বাসিত পরিবারসমূহের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, গুণগত মানসম্পন্ন কাঁচা মাছ সংগ্রহের জন্য আধুনিক মৎস্য অবতরণব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। শুঁটকি মাছ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন হবে। গুণগত মানসম্পন্ন শুঁটকি মাছের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকারে সহায়তা করা যাবে। আরও পড়ুন বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ৩ কক্সবাজারের খুরুশকুলে প্রকল্পটি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পটির কাজ অদৃশ্য কারণে থমকে আছে। প্রকল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশলী রোশান জানান, এখানকার এই পরিবেশে কাজ করা খুবই চ্যালেঞ্জিং। প্রকল্প আগে শুরু হলেও কয়েক মাস আগে কাজ শুরু হয়েছে। দেখতে পাচ্ছেন এখানে অবতরণ শেডের পাইলিং। ✔ আরেক প্রকৌশলী ফারহান ফিরোজ বলেন, এখানে কাজ করি তার মধ্যে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আছে। এখানে পানির সংকট আছে। আমরা বরিং করে কাজ চালাচ্ছি। সমুদ্রের লোনাপানি দিয়ে তো আর কাজ করা যায় না। এই বালুর মধ্যে একটু ছায়াও নেই; এর মধ্যে কাজ করাটাও কঠিন।তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি হলে আশ্রয়ণের প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরও অনেক মানুষ উপকৃত হবে। এ ছাড়া দেশে এবং দেশের বাইরে শুঁটকির চাহিদা অনেক। অনেক দেশ এই শুঁটকি দিয়েই সকালের নাশতা করে। ভালো মানসম্পন্ন শুঁটকি তৈরি করা গেলে এটি রপ্তানির একটি বড় খাত হবে।◑ ফখ|চখ📸 Download News PhotoCard (1080×1080) Share