chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

কালুরঘাট সেতুতে ‘ডেড স্টপেজ সিগন্যাল’ না মানার প্রবণতা বেড়েছে

চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুতে হঠাৎ করে সিগন্যাল না মানার প্রবণতা বেড়েছে ট্রেন চালকদের মধ্যে। ৫ জুন পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে কয়েকটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে একশিশুসহ দুইজন নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। কয়েকজন রেলওয়ে স্টেশনমাস্টারের দাবি, ট্রেনটি ‘ডেড স্টপেজ সিগন্যাল’ না মেনে কালুরঘাট সেতুতে উঠেছিল। কালুরঘাট সেতুটি ‘ডেড স্টপেজ’ হিসেবে চিহ্নিত। এখানে ট্রেনকে অবশ্যই থেমে ধীরে ব্রিজে ওঠার নিয়ম রয়েছে। চালকের অবহেলায় সেই নিয়ম ভাঙায় ঘটেছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ফের ৮ জুন ফের সিগন্যাল অমান্য করে কালুরঘাট সেতুতে উঠল আরেকটি ট্রেন। তবে ব্রিজের উপর কোন যানবাহন না থাকায় কোন ধরণের দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।

সিগন্যাল মানেনি চালক 

বৃহস্পতিবার রাতে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী স্টেশন পার হয়ে ‘ডেড স্টপেজ সংকেত’ না মেনে দ্রুত গতিতে সেতুতে উঠে যায়। সেতুতে একটি অটো রিকশা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম পাশ থেকে পার হওয়া কিছু গাড়ি সেতুতে আটকে ছিল। তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তুষার (২৯) ও দুই বছরের শিশু মেহেরিমা নূর নিহত হন।
আহতদের মধ্যে একজন বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ১০ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পাঁচ জন বেসরকারি পার্ক ভিউ হাসপাতালে এবং চারজন বোয়ালখালী উপজেলার বেসরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কালুরঘাট এলাকার পরবর্তী রেলস্টেশন জানে আলী হাট স্টেশন। ষেকানের স্টেশন মাস্টার নেজাম উদ্দিন বলেন, কালুরঘাট সেতু ‘ডেড স্টপেজ সেতু’। প্রতিটি ট্রেন সেতুতে ওঠার আগে দাঁড়িয়ে যাবে। সেখানে ‘ডেড স্টপেজ বুকে’ স্বাক্ষর করতে হয়। পাশাপাশি সেতু পার হওয়ার সময় ১০ কিলোমিটারের বেশি গতি তোলা যায় না।

জালানিহাট স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত গার্ড মো. মাহবুব বলেন, আমি সিগন্যাল অমান্য হওয়ার সম্ভাবনা বুঝতে পেরে নিজেই সেতুর মুখে গিয়ে ট্রেন থামাতে লাল পতাকা নাড়িয়ে সংকেত দিই। তবুও ট্রেন চালক সেটি উপেক্ষা করেন।

কালুরঘাট সেতুর পূর্বপাশে রয়েছে গুমদণ্ডী রেলওয়ে স্টেশন। ওই স্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার আজম উদ্দিন বলেন, সেতুতে থাকা গেইটম্যান দূর থেকে রেড সিগন্যাল দেখিয়েছিলেন। কিন্তু পর্যটক এক্সপ্রেসের লোকমাস্টার (চালক) ওই সিগন্যালও মানেনি। ডেড স্টপ বইতে স্বাক্ষর করার কথা থাকলেও সেটা করেননি।

বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটি 
কালুরঘাট সেতুতে দূর্ঘটনার পর পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের দায়িত্ব পালনকারী গার্ড সোহেল রানা, লোকো মাস্টার গোলাম রসুল, সহকারী লোকো মাস্টার আমিন উল্লাহ এবং অস্থায়ী গেট কিপার মাহবুবকে প্রাথমিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

পূর্ব রেলের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) মো. কামরুজ্জামান বলেন, কারো গাফিলতি ছিল কি না তা কমিটি তদন্ত করে দেখবে। পাশাপাশি সেতু পরিচালনায় দায়িত্বটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের। তদন্তে যদি তাদের কোনো গাফেলতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফের সিগন্যাল অমান্য
গত ৮ জুন বিকেল ৪টা ৫মিনিটের সময় কালুরঘাট এলাকায় চট্টগ্রাম নগর থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রবাল এক্সপ্রেসের চালক নির্ধারিত স্থানে না থেমে ও চৌকিদার বইয়ে সই না করেই সেতুতে প্রবেশ করেছেন। ওই সময় সেতুর ওপর কোনো গাড়ি না থাকায় বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাটি রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমানকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন জান আলী হাট রেলস্টেশনের রিলিভিং মাস্টার তান্নি বড়ুয়া।

তিনি লিখেছেন, ‘কর্তব্যরত গেটকিপার (অস্থায়ী) সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে জানতে পারি, ট্রেনটি সেতুর ডেড স্টপে (দাঁড়ানোর নির্ধারিত স্থান) না দাঁড়িয়ে ও চৌকিদার বইয়ে সই না করে ইঞ্জিন ও দুটি বগিসহ সেতুতে প্রবেশ করেছে। এরপর চৌকিদার বইয়ে সই করা হয়েছে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনা নিরাপদ ট্রেন পরিচালনার পরিপন্থী।’

ঘটনার সময়কার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ট্রেনটি সেতুর দিকে আসছে। তখন বিকেল ৪টা ৫ মিনিট। গেটম্যান সাইফুল ইসলাম হাতে লাল পতাকা নিয়ে ট্রেন থামার সংকেত দেন। ট্রেনটি আরও কয়েক সেকেন্ড পর সেতুর ওপর গিয়ে থামে।

এ বিষয়ে জান আলী রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার নেজাম উদ্দিন বলেন, কক্সবাজারগামী ট্রেন শহর থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর কালুরঘাট সেতুর পশ্চিম প্রান্তে একটি নির্ধারিত স্থানে দাঁড়াতে হয়। এরপর চৌকিদার বইতে সই করতে হয়। এ নিয়ম মানা হয়নি। ট্রেনের চালককে লাল সংকেত দেখানো হয়েছিল। সেটি উপেক্ষা করা হয়েছে। ঘটনাটি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।

◑ ফখ|চখ

 

এই বিভাগের আরও খবর