chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ক্রেতা–বিক্রেতাদের দর কষাকষিতে সরগরম পশুরহাট

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। চট্টগ্রামে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। ক্রেতা–বিক্রেতারা দর–কষাকষিতে দারুণ সরগরম নগরের পশুর হাটগুলো।

আজ শুক্রবার দুপুরে মইজ্জ্যারটেক পশুর হাটে গরু কিনতে আসেন ব্যবসায়ী গোলাম মওলা । তিনি বলেন, শহরে গরু রাখার জায়গা নেই। তাই ঈদের এক দিন আগেই তাঁরা গরু কেনেন। সাধারণত তাঁরা দুই ভাই মিলে মাঝারি আকারের গরুর কেনেন। গতবার কিনেছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে। এবার বিক্রেতারা একই রকমের গরুর দাম হাঁকছেন দেড়লাখ টাকা।

দুপুর পর্যন্ত গরু কিনতে না পারলেও সাগরিকা হাট থেকে ৭৫ হাজার টাকায় ছোট আকারের গরু কেনেন স্কুল শিক্ষিকা ফয়জুন নেছা। আজ সকালে তিনি গরুটি কেনেন।

এক ফাঁকে চট্টলার খবরকে বলেন, ছোট গরুই প্রতিবছর কেনেন তিনি। তবে এবার দাম একটু বেশি মনে হয়েছে তাঁর।

এবার চট্টগ্রামে তিনটি স্থায়ী ও ৯টি অস্থায়ী হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা চলছে। আজ সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত বিবিরহাট, সাগরিকা ও কর্ণফুলী গরুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি পশু সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতার উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

আগ্রাবাদ থেকে বিবিরহাট বাজারে আসেন নুরুল ইসলাম টিটু ও তাঁর ভাই মুরাদ। তাঁরা ৯৫ হাজার টাকায় একটা লাল রঙের গরু কিনে নেন। এই দুই ভাই বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম বেশি রাখছেন ক্রেতারা।

তবে হাটের গরু ব্যাপারীরা বলছেন, এবার বাজারে সব রকমের পশুখাদ্যের দাম বেশি। একটা গরু পরিচর্যা করতে গতবারের চেয়ে এ বছর ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে। তাই কম দামে ছাড়া যাচ্ছে না। মোটামুটি একই কথা বলেন সাগরিকা পশুহাটের ইজারাদার এরশাদ মামুনও। তিনি বলেন, বেচাকেনা গতবারের তুলনায় এখনো কম।

পটিয়ার কেলিশহর থেকে ১৩টি গরু নিয়ে সাগরিকায় এসেছিলেন কালা মিয়া। তাঁর মধ্যে ‘লাল গরু’ নিয়ে তাঁর মনে বাড়তি উচ্ছ্বাস ছিল। কুচকুচে লাল রঙের গরুটির ওজন ৯ মণের মতো। তিনি আশা করেছিলেন, গরুটিকে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত এটি বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৫ লাখ ১০ টাকায়। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বললেন, প্রত্যাশামতো বিক্রি হয়েছে। সব কটি গরু বিক্রি হয়েছে ১৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকায়।

ফেনী থেকে ছোট ও মাঝারি আকারের ৯টি গরু নিয়ে এসেছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর সব গরুই বিক্রি হয়ে গেছে। ৬ লাখ ৮৫ হাজা টাকা নিয়ে তিনি রওনা হয়েছেন বাড়ির দিকে। তিনি বলেন, বাজারে এবার ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি ছিল। তাঁর সব গরুই বিক্রি হয়ে গেছে আজ।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এবার পৌণে ৯ লাখ পশুর প্রয়োজন হবে।

এই বিভাগের আরও খবর