চট্টগ্রামে পশুর হাটে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো
চট্টগ্রামে বেচাকেনা বেড়েছে কোরবানির পশুর। আর এই হাটগুলোকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে নানা ধরনের মৌসুমি ব্যবসা-বাণিজ্য। বিভিন্ন ধরনের পশুখাদ্য যেমন ঘাস, খড়, ভুসি, মাংস কাটার কাঠের গুড়ির ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। আবার পশুর দেখভাল করার জন্য অনেকে দিনমজুরের কাজ করছেন। এ ছাড়া পানি সরবরাহ করা, হাটের ব্যবস্থাপনার কাজেও নিয়োজিত আছেন অনেক লোক।
বুধবার দুপুরে কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক বাজারে ঘাস বিক্রি করছিলেন লোহাগাড়া থেকে আসা আসলাম মিয়া (৪০)। জানালেন, ১০ বছর ধরে তিনি এভাবেই পশুর হাটের সময় হাটে ঘাস বিক্রি করছেন। দৈনিক তিনি ৫০ থেকে ৬০ আঁটি ঘাস বিক্রি করেন প্রতিটি ৩০ টাকা দরে। আর চট্টগ্রাম নগরের বাইরে উপজেলাগুলো থেকে আসে এই ঘাস।
আসলাম মিয়া বলেন, ‘এমনি সময় গ্রামে কাজ করি, এই সময় এসে ঘাস বিক্রি করি। বাড়তি ইনকাম হয়।’
একই হাটে গোখাদ্য বিক্রি করছিলেন সেলিনা বেগম ও তাঁর ছেলে রাজীব। বস্তায় করে গমের ভুসি, চালের কুঁড়া, খৈল নিয়ে বসেছেন তিনি। সেলিনা খাগড়াছড়ি থেকে এসেছেন। তিনি জানান, কোরবানির পশু কেনার পর ক্রেতারা এই খাবার কিনে নেন। ফলে এই সময় এটি তাঁদের বাড়তি আয়ের একটি পথ করে দেয়। এ ছাড়া প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি নেন বলে আয়ও মন্দ হয় না।
আরেকটু সামনেই গোখাদ্য নিয়ে বসেছেন হাবিবুর রহমান (৭০)। তিনিও প্রায় ১৯ বছর ধরে এভাবে মৌসুমি বিক্রেতা হিসেবে গোখাদ্য বিক্রি করে আসছেন।
হাটে খাওয়ার পানি সরবরাহ করতে দেখা গেল একদল নারীকে। কথা হয় সুধা রানী ও বিলকিস বেগমের সঙ্গে। তাঁরা জানান, পাশেই একটি পানির পাম্প থেকে ১০ টাকা দরে প্রতি কলসি পানি কেনেন আর তা ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করেন ১৫-২০ টাকা দরে। এই কাজ তাঁরা কোরবানির ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু করেন। প্রতিদিন ১০০ কলসি পানি সরবরাহ করেন বলে জানান।
কাঁঠালপাতা বা খড়ের চাহিদাও থাকে এ সময়ে। পশু কেনার পর যে যাঁর মতো চাহিদা অনুযায়ী এগুলো কিনে নেন। এগুলো বিক্রির জন্যও কিছু লোক বসেছেন হাটের পাশে। এসবের বিক্রেতা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যারা পশু বেচে, তারা নিজেরাই এলাকা থেকে নিজেদের পশুর খাবার নিয়ে আসে। আর যারা কিনে নেয়, তারা আমার কাছে আসে পাতা ও খড় কিনতে।’ এই কাজ তিনি সাত বছর ধরে করছেন বলে জানান।
বিভিন্ন পশুখাদ্যের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে পশুকে সাজানোর মালা ও ঘুণ্টি। বিবিরহাটে পশু কেনার পর অনেকে সেই দোকানগুলোর সামনে এসে নিজের কেনা পশুকে সাজিয়ে নিচ্ছেন। এ যেন আরেক ধরনের উৎসব। এসব মালা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। আর ঘুণ্টি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।
গরুর ব্যাপারীরা জানান, পশুকে সাজিয়ে অনেকে আনন্দ পান। তাই এ সময় এই ব্যবসা থাকে চাঙা। আবার বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার জন্য পশুর হাটে ব্যাপারীরা দিনমজুর নিয়োগ করে থাকেন। চাহিদা বেশি থাকায় দৈনিক এমন দিনমজুরেরা পান ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা।
◑ ফখ|চখ
