চট্টগ্রামে গরুর বাজারে উৎসবের আমেজ
চট্টগ্রামে শেষ মুহূর্তে গরুর বাজারে উৎসবের আমেজ চলছে। ক্রেতারা ব্যাপক উৎসবের আমেজ নিয়ে পশু কিনছেন। নগরীর ১২টি পশুর হাটে একটু পরপর মাইকে ভেসে আসছে নানান মজার ঘোষণা। গরীবের গরু ৬০ হাজার থেকে শুরু হয়ে ধণীর ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাকা হচ্ছে। স্বস্তির নি:স্বাস সবার মধ্যে। কখনো কোনো বিপত্তি গরু কেনার আনন্দে তেমন ছাপ ফেলছে না। জমজমাট হাটে হাটে উৎসবের আবহ। বিকিকিনি করে ক্রেতা বিক্রেতার মুখে বিশ্বজয়ের হাসি।
সাগরিকা বাজার থেকে আজ বুধবার সকালে মাঝারি আকারের একটি গরু কিনলেন ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন। ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা গরুর দাম মেটালেন আনন্দ নিয়ে। তাঁর কাছে গরুটি বিক্রি করা সাতকানিয়ার ওহিদুল আলম বললেন,‘দাম মোটামুটি পেয়েছেন। এবার গরুর সরবরাহ বেশি থাকায় গতবারের চেয়ে গরুর দাম একটু কম।’
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড় বা ছোট নয়, মাঝারি আকারের গরুর দিকেই ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি। এ ধরণের গরু হাট ভেদে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়ে সামান্য বড় গরু ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
আজ বুধবার সকালে সাগরিকা হাটে ঘুরে দেখা গেছে, উৎসবের আমেজ। ক্রেতারা সানন্দে পশু কিনছেন। হাটে প্রবেশ পথে পুলিশ-র্যাবের পাহারা। তবে রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে ক্রেতারা-বিক্রেতাদের কষ্টের অন্ত নেই। এছাড়া বাজারে পশু আনতে পথে পথে চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে বিক্রেতাদের অভিযোগ।
চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আতিকুর রহমানও বড় গরু কিনেছেন। তাঁর সঙ্গে আছে তার ভাই শহিদ, চাচা আমজাদ হোসেন। তারা জানালেন, গরু কেনার আনন্দ অন্য রকম। গরুটির বিক্রেতা কালু মিয়া জানালেন, এবার দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে।
সাগরিকা হাটে গরুর পাশাপাশি ছাগল, দুম্বা, উটও বিক্রি হচ্ছে। হাটহাজারীর আব্দুল মালেক পাঁচটি ছাগল বিক্রি করতে এসেছেন। জানালেন, চার বছর ধরে লালন-পালন করা ছাগল পাঁচটি বিক্রি করতে চান দেড় লাখ টাকা। অপেক্ষা করছেন কাঙ্কিত ক্রেতার।
সাগরিকা বাজারের পাশে আকবর মামার বাজারে সবচেয়ে দামি গরু,মহিষ ও উট উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে এখানে গরু।
আকবর মামা এ প্রসঙ্গে বলেন,‘দূরদুরান্ত থেকে এবার গরু এসেছে বেশি। বেচাকেনাও ভাল। বাজারের সার্বিক পরিবেশ ভাল থাকায় গরুর বিক্রেতাও খুশি।’
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরে স্থায়ী ৩টি ও অস্থায়ী ৯টি হাট বসেছে। গতকাল মঙ্গলবার দেখা গেছে, এ বাজারে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, কুমারখালী , বালিয়া পাড়া, চাপাই নববাগঞ্জ, রাজশাহী নাটোর, কুড়িগ্রামসহ নাগেশ্বরীর বিখ্যাত গরু সমূহের সমাগম ঘটেছে। দূর থেকে এখানে ব্যবসায়ীরা মুনাফা লাভের আশার এসব গরু নিয়ে এসেছে। এছাড়া সাগরিকা রোড বশর স্টোরের পার্শে বিজয় বাবুর দোকানের পেছনে, পাঠান পাড়া গলির ভিতর বশর মামার গরুর বাজারেও জমে উঠেছে বিকিকিনি। কোরবানি উপলক্ষে কয়েকদিন আগে থেকে এ হাটগুলোতেও দেশের বিখ্যাত গরুগুলো ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসছে।
এদিকে কর্ণফুলী গরুর বাজার, স্টিল মিল বাজার, পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, সল্টগোলা রেলক্রসিং মাঠ, কমল মহাজন হাট ও পোস্তারপাড় বিদ্যালয় মাঠেও অস্থায়ী গরুর বাজারে আজ শনিবার সকাল থেকে বিক্রি বেড়েছে।
গত ১ সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া চলছে। এতদিন বৃষ্টি কমার আশায় লোকজন বাজারে যাননি। তবে শেষ মুহূর্তে এসে বৃষ্টি বাদল উপেক্ষা করে মানুষ গরুর বাজরমুখী হয়েছে।
◑ ফখ|চখ
