chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

চট্টগ্রামে অনলাইনে জমে উঠেছে কুরবানির হাট

বৈরি আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের পশুর হাট এখনো জমে উঠেনি। টানা বৃষ্টিতে হাটে কাঁদা ও পানিতে থৈ থৈ করছে। কুরবানির বাকি ৪দিন। তাই ঝামেলা এড়াতে চট্টগ্রামে অনলাইনে জমে উঠেছে কোরবানির পশু বেচা-কেনা। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তোলা খামারিরা তাদের পশু অনলাইনে বিক্রি করছেন। নানা কারণে ক্রেতারাও ঝুঁকছেন অনলাইনে। ফেসবুক পেজ অথবা অনলাইনে গরু দেখে ক্রেতারা খামারে যাচ্ছেন। এরপর গরু কিনে বাসায় ফিরছেন।

চট্টগ্রামে অনলাইন প্লাটফর্ম আগে থেকে ছিল, সেগুলোকে সমন্বয় করে অনলাইনে গরু বেচা-কেনা হচ্ছে। অন্যদিকে কিছু খামারি নিজ উদ্যোগে অনলাইনে গরু বেচা-কেনা করছেন। তারা ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইটে গরুর ছবি দিয়ে গরু বিক্রি করছেন।

খবর নিয়ে জানা গেছে, এবার চট্টগ্রামের শতাধিক খামারি অনলাইনেই কোরবানির পশু বিক্রি করছেন। খামারিরা ফেসবুক ভিত্তিক বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে পশুর ছবি পোস্ট করেন, সঙ্গে ওজন ও দামও লিখে দেন। তারপর ক্রেতাদের পছন্দ হলে মুঠোফোনে কথা বলে সরাসরি খামারে এসে পছন্দের গরু কিনছেন। অনলাইনের এই হাটে কোনও ঝক্কিঝামেলা নেই। কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ীও এবার হাটে গরু তোলার পাশাপাশি অনলাইনে গরু বিক্রি করছেন।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এবার হাটে কোরবানি দাতাদের আগ্রহ কম থাকায় ব্যবসায়ীরা অনলাইন প্লাটফর্মে ঝুঁকছেন। এই হাটের পরিসর এবার আগের চেয়ে বেড়েছে, বেড়েছে জনপ্রিয়তাও।

 

গত কয়েক বছর ধরে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর পাশাপাশি অনেক খামারি, ফার্ম বিশেষ করে ফেসবুকে পেজ খুলে গরু বিক্রির তথ্য প্রকাশ করছে, বিজ্ঞাপনও দিচ্ছে। অন্যদিকে, বৃষ্টি বাদলের কারণে হাট বাজারে গিয়ে গরু কেনার ক্রেতাদেরও আগ্রহ বেশি না।

নগরীর বাকলিয়া এলাকার হাজী আনোয়ার ডেইরি ফার্মের মালিক মো. ইমরান বলেন, আমার খামারে ১৩০টির মতো গরু ছিল। ইতোমধ্যে ৪৫টির মতো গরু বিক্রি হয়ে গেছে। ফেসবুকে পোস্ট দেখে গরুগুলো কিনে নিয়ে গেছেন ক্রেতারা। আমার খামারে ১৩০০ কেজি ওজনের একটি ষাঁড় আছে। অনলাইনে এটি পোস্ট করার পর খুব সাড়া পাচ্ছি। ইতোমধ্যে ওই ষাঁড়টির দাম সাত লাখ উঠেছে। উপযুক্ত দাম পেলে গরুটি বিক্রি করে দেবো।

নগরীর কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেকের এফএ অ্যান্ড অ্যাগ্রোর মালিক বলেন, ২০২১ সাল থেকে আমরা অনলাইনে গরু বিক্রি করা শুরু করি। ওইবছর ভালো সাড়া পাচ্ছি। ঈদের আগেই সবগুলো গরু বিক্রি হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

চট্টগ্রাম শহরে তো বটেই উপজেলাগুলোতেও অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে খামারিদের গরু। চট্টগ্রাম শহরে তো বটেই উপজেলাগুলোতেও অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে খামারিদের গরু। শুধু নগরীর কোরবানিদাতারা অনলাইনে গরু কিনছেন তা নয়, উপজেলা পর্যায়েও এবার অনেকে অনলাইনে গরু কিনছেন।

এব্যাপারে পটিয়ার মাসুদ এ্যাগ্রোর কর্মচারি সাহেদ বলেন, এবার একটি গরু হাটে নিতে হয়নি। আমাদের খামারে ৪৫টি গরু ছিল। ইতোমধ্যে সবগুলো গরু বিক্রি হয়ে গেছে। অনলাইনে এবার এত বেশি সাড়া পাবো আগে ভাবিনি।

প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের অনলাইনে কোরবানি যোগ্য গবাদিপশু বিক্রয় প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৫টি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশুর সংখ্যা ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি। ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ৩৩ হাজার ৪০৬টি। এই ঘাটতি পূরণে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে পশু আনা হচ্ছে।

এদিকে সোমবার বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনলাইনে পশু বিক্রি বাড়ায় সাড়া নেই বাজারগুলোতে। এতে বিপাকে পড়েছেন বাজার ইজারাদাররা। কোটি টাকা দিয়ে বাজার ইজারা নিলেও আগের বছরগুলোর তুলনায় পশু বিক্রি কম হওয়ায় ইজারা মূল্য উঠে আসবে কিনা তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন ইজারাদাররা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের তথ্য মতে, চট্টগ্রাম জেলায় মোট ২২২টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে রয়েছে ১২টি। বাকিগুলো জেলার ১৫টি উপজেলায় অবস্থিত। পশুর হাটের মধ্যে ৬০ টি স্থায়ী এবং ১৬২ টি অস্থায়ী।

বিভিন্ন বাজার ইজারাদারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় বাজারে পশু বিক্রির পরিমাণ তুলনামুলক কম। অনলাইনে কিংবা চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন অলিতে গলিতে পশুর হাট বসানোর কারণেও পশু বিক্রির পরিমাণ কমে গেছে।

চট্টগ্রাম নগরীর বৃহৎ পশুর হাট সাগরিকা বাজারের ইজারাদার বলেন, অনলাইনে পশু বিক্রি এবং শহরের অলিতে গলিতে পশুর হাট বসানোর কারণে ইজারার টাকা উঠে আসবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। তাই প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই যে, চট্টগ্রাম নগরীতে অনুমোদন ছাড়া যেসব পশুর হাট রয়েছে সেগুলো যাতে বন্ধ করে দেওয়া হয়।”

ফখ।চখ

এই বিভাগের আরও খবর