chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

মইজ্জ্যারটেক পশুর হাটে ৩ সৌদি উট

আর মাত্র কয়েক দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর হাট। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিখ্যাত মইজ্জারটেক পশুর হাটে ইতোমধ্যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে কোরবানির পশু ওঠানো শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বিশেষ নজর কাড়ছে সৌদি আরব থেকে আনা উট। এক জোড়া উটের দাম হাঁকা হচ্ছে ৭০ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রতিটি উটের দাম প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

এই উটগুলো আনা হয়েছে সীমান্তবর্তী জেলা যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলের পুটখালী গ্রামের খামার মালিক নাসির হোসেনের খামার থেকে। দীর্ঘ এক বছর ধরে এই খামারে উটগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। খামার সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এসব উট খামারে আনার পর থেকে দেশীয় আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সময় লেগেছে। তবে নিয়মিত পরিচর্যা ও বিশেষায়িত খাবারের মাধ্যমে প্রাণীগুলো সুস্থ ও কোরবানির উপযোগী হয়েছে।

খামার মালিক নাসির হোসেন জানান, “এক বছর আগে আমরা সাতটি উট সৌদি আরব থেকে এনেছি। এগুলোর উচ্চতা ১২ থেকে ১৫ ফুটের মধ্যে। প্রতিটি উটের খরচ পড়েছে কয়েক লাখ টাকা করে। এখন পর্যন্ত একটি উট বিক্রি হয়েছে ৩২ লাখ টাকায়। বাকিগুলো চট্টগ্রামের হাটে পাঠানো হয়েছে।”

 

কোরবানির ঈদে উট কোরবানির সংস্কৃতি বাংলাদেশে নতুন নয়, তবে সাধারণত বড়লোক বা বিত্তবানরা গরুর পাশাপাশি আলাদা কিছু করতে চাইলেই উটের দিকে ঝুঁকেন। মধ্যপ্রাচ্যে উট কোরবানি খুবই প্রচলিত হলেও বাংলাদেশে তা এখনো সীমিত পরিসরে রয়েছে। তবে চট্টগ্রামের মইজ্জারটেক হাটে এবার বেশ কয়েকটি উট উঠেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো নাসিরের খামারের এই সাতটি সৌদি উট।

হাটে আগত এক ক্রেতা বলেন, “এত বড় উট বাংলাদেশে খুব কমই দেখা যায়। অনেকেই শুধু ছবি তুলতে আসছেন। দামটা একটু বেশি হলেও যারা যৌথভাবে কোরবানি দিতে চান, তাদের জন্য ভালো অপশন হতে পারে।”

হাটের বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, কোরবানির হাটের শুরুতে সাধারণত দর-কষাকষির প্রবণতা বেশি থাকে। ক্রেতারা পুরো বাজার দেখে সিদ্ধান্ত নিতে চান। তবে ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, বিক্রিও তত বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

উট বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, একেকটি উটে সাতজন পর্যন্ত শরিক হয়ে কোরবানি দেওয়া যায়, তাই পরিবারের বা বন্ধুবান্ধবের মধ্যে যৌথ কোরবানির জন্য উট আদর্শ হতে পারে। তাছাড়া এর আলাদা সৌন্দর্য ও মর্যাদার বিষয়টিও অনেককে আকৃষ্ট করে।

চট্টগ্রামের পশুর হাটের আয়োজক পক্ষ জানায়, এবার তারা নিরাপত্তা, পশু দেখভাল ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। উটের মতো বড় এবং ব্যতিক্রমী প্রাণীর জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থী ও ক্রেতারা নিরাপদে তা দেখতে পারেন।

এদিকে পুটখালীর খামার ঘিরে এখন ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের মতে, নাসিরের এই খামার ভবিষ্যতে দেশে উট চাষে একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে উট পালনের আইনগত কাঠামো ও পশু আমদানির বিষয়গুলো অনেকটাই কঠিন হলেও ভবিষ্যতে সরকারিভাবে এই খাতে আরও সহায়তা পেলে পশুপালনে বৈচিত্র্য আসবে।

কোরবানির পশু হিসেবে উটের গুরুত্ব ইসলামিক শরিয়তেও প্রতিষ্ঠিত। এর মাংস সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। তাই অনেকেই সৌখিনতা ছাড়াও ধর্মীয় আবেগ ও স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় উট কোরবানি দিতে আগ্রহী।

সব মিলিয়ে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এবার বাংলাদেশের পশুর হাটগুলোতে দেখা যাচ্ছে নতুন এক চিত্র—মরুভূমির রাজা উটের উপস্থিতি। এর মাধ্যমে হয়তো কোরবানির পশুর বাজারে নতুন এক ধারা শুরু হতে চলেছে।

ফখ|চখ

এই বিভাগের আরও খবর