ঐতিহ্য
চন্দনাইশে ৩৫৮ বছরের খাঁন মসজিদ ও ২২ কবর
চট্টগ্রামের চন্দনাইশের বাগিছাহাঁট এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে মসজিদ আর সারি সারি কবর, একই রকমের কবর গুলো দেখলেই বুঝা যায় পেছনে কোন ইতিহাস আছে। ভ্রমণ পিপাসুরা কক্সবাজার আসা- যাওয়ার পথে উৎসুক দৃষ্টিতে একবার হলেও উঁকি দিয়ে পাশের জনকে একবার হলেও জিজ্ঞেস করে ওটা কি? হয়তো আপনি এতক্ষণে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন, হ্যাঁ সেই ৩৫৮ বছরের ইতিহাসের ধারক খাঁন জামে মসজিদের কথা বলছি।

খাঁন জামে মসজিদটি যুগ যুগ ধরে মুগল সাম্রাজ্যের নান্দনিক নিদর্শন বহন করে চলেছে। মসজিদটির দক্ষিণ পাশে চারদিকে সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা চত্বরে শৈল্পিক স্থাপনা শৈলীতে বাঁধানো দুই সারিতে ২২টি কবর। নান্দনিক খাঁন মসজিদের উত্তর পাশে একটি কক্ষে সংক্ষিত আছে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তাফা (সঃ) ও শেখ মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর পবিত্র পায়ের চিহ্ন। এটি দেখার জন্য ছুটে আসেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা।
মসজিদটির দক্ষিন পার্শ্বে যে কবরগুলো রয়েছে তা প্রায় ৩৫৮ বছর পূর্বের। মুঘল আমলে ১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম বিজয়কালে দোহাজারীর সাঙ্গু নদীর পাড় পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণে পরিচালিত অভিযান কালে নিহত হয়ে মসজিদের পাশে চিরশায়িত হন ২২ সেনা কর্মকর্তা । তাদের সবাইকে সেই সময়ে এই কবস্থানে দাফন করা হয়। সেই সময় থেকে উক্ত কবস্থানের নাম রাখা হয় বাগ-ই-শাহ বা বাদশাহদের বাগান। সেই থেকে স্থানটির নাম বাগিচাহাট নামে পরিচয় লাভ করে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের ফৌজদার ওয়াশিকা এই অঞ্চলের বসতি স্থাপনকারী জমিদার। ধর্মপ্রচারক ও সুফী সাধক আধু খাঁর তরবারীর বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে তাকে চট্টগ্রাম নগরীতে খাঁন মঞ্জিলে দাওয়াত করেন এবং ওয়াসিন খাঁ তা পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। আধু খাঁ দোহাজারীর তার নিজ বাড়ীর দুর্গে পৌছে তার তরবারীর হাতলটি চট্টগ্রামের ফৌজদার ওয়াসিকার কাছে স্ব-সম্মানে পাঠিয়ে দেন। বীরত্বের পুরষ্কার হিসেবে ফৌজদার ইয়াছিন খাঁ পবিত্র মক্কা নগরী থেকে আনা নবীজির পায়ের সম্বলিত পাথর উপহার দেন আধু খাঁকে। তার সাথে আরোও দেন হযরত আব্দুল কাদের জিলানীর পায়ের চিহ্ন। আধু খাঁ সেসব উপহারগুলো স্থাপন করেছেন তারই বাগানবাড়ী বাগিচাহাট খান মসজিদে।
যা আজও সেখানে সংরক্ষিত আছে। এগুলো সংগ্রহ করেছিলেন ৫০০ বৎসর পূর্বে বিশিষ্ট ইসলাম প্রচারক ও সুফী সাধক হযরত শেরে জামান খান (রঃ)। তিনি পবিত্র মদিনা শরীফ থেকে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পবিয় হাত ও পায়ের ছাপ সম্বলিত পাথর সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। তা ওয়াসিন খাঁর মাধ্যমে হাশিমপুর ইউনিয়নের বাগিচাহাট খান শাহী মসজিদের ভেতরে স্থাপন করেন। তা আজও এলাকাবাসীর নিকট হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কদম বা পা মোবারক হিসেবে পরিচিত। তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত বিশ্ব বিখ্যাত তোপ কাপি জাদুঘরে সংরক্ষিত কদম রাসুল সাঃ শরীফের সাথে এই কদম রাসুল (সাঃ) শরীফটি হুবুহু মিলে যায়।
এছাড়া মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে হযরত শেরে জামান খাঁ সহ ২২ জন সেনা কর্মকর্তার কবর আজও মোঘল ইতিহাসের ধারক হয়ে আছে।
◑ ফখ|চখ
