chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

হিলভিউ ফরেস্ট পাহাড় কাটার মহোৎসব  

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন হিলভিউ আবাসিকের পাহাড় কেটে ভবন তৈরির তোরজোর চলছে।  ঈদের বন্ধের মধ্যে ফরেষ্ট পাহাড়টি কাটার কাজ শুরু করে দখলদাররা। তবে গতকাল শনিবার পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে পাহাড় কাটার সত্যতা পেয়ে সংশ্লিষ্টদের শোকজ করেছে। 

অভিযোগ ওঠেছে, পাহাড় কেটে ওই পাহাড়ে পাঁচতলা ভবন গড়ে তুলছেন আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন। তাঁর তত্ববাধনানেই সেখানে পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। এরমধ্যে সেখানে বিশাল আকারে গর্ত করে ফেলা হয়েছে। মূলত পাঁচতলা ভবনের বেইস গড়ে তুলতেই সেখানে পাহাড় কেটে সমান করে দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, এক মাস আগে সেখানের বিশাল অংশজুড়ে (প্রায় ২০ কাঠা) জায়গার গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। এরপর রাতের বেলায় স্কেভেটর ও দিনের বেলায় শ্রমিক দিয়ে পাহাড় কাটা হয়। তবে ঈদের ৯ দিনের ছুটিতে সবচেয়ে বেশি পাহাড় কাটা হয়েছে। ঈদে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন, পুলিশ ও অন্যান্য দপ্তরের লোকজন ছুটিতে থাকে। আর এই সুযোগেই পাহাড়কে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে সুন্দর এই পাহাড়টিও বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১৫-২০ জন শ্রমিক পাহাড় কাটছে সেখানে। যারা প্রায় এক মাস ধরে পাহাড় কাটার কাজে নিয়োজিত আছে। রমজানে কোন অভিযান না হওয়ায় সুযোগকে এই দখলদাররা কাজে লাগিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা মো. সুজন নামে হিলভিউ আবাসিকের এক বাসিন্দা বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমরা অনিন্দ্য সুন্দর এক পাহাড় দেখে এসেছি হিলভিউকে। কিন্তু এখানে একের পর এক বসছে প্রভাবশালীদের লোভের থাবা। এবার বসানো হলো শেষ কোপ। পাহাড়টি এখন অস্তিত্ব সংকটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হিলভিউ আবাসিক সরকারি জমি। প্রায় ২ দশকেরও বেশি সময় আগে বস্তিবাসীকে পাহাড়টি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওইসময় ইসলামিক ফ্রন্টের বর্তমান চেয়ারম্যান মাওলানা এম এ মতিনও ৩৬ কাঠার মতো জমি বরাদ্দ পান। পরে তিনি সেগুলো বিক্রি করে দেন।

মাওলানা এম এ মতিন বলেন, আমি ও আবু ইউসুফ চৌধুরীর নামে ৩৬ কাঠা জমি বরাদ্দ হয়েছিল। এগুলো আমাদের নামে রেজিস্ট্রি করা। কিন্তু আমরা পরে ২০০৯, ১০ ও ১২ সালে সেগুলো বিক্রি করে দেই। এখনও কিছু জমি আছে। আমাকে দেওয়া জমিগুলো পাহাড় নয়, খিলা। দখলে আমি পাহাড়ি ছরা পেয়েছিলাম, কাগজে খিলা লেখা আছে।

তিনি বলেন, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ চৌধুরীর কাছেও আমি কিছু জমি বিক্রি করেছি।মোরশেদ চৌধুরীর মালিকানাধীন ১২-১৫ কাঠা খিলা আছে। আর কিছু ছরা এখন খালি আছে। এসময় তিনি ফরেষ্ট পাহাড়টি কেটে আরও আগেই বাড়িঘর হয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।

এদিকে পাহাড় কাটার পাহাড় কাটার স্থানটি গতকাল শনিবার পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব্) সোনিয়া সুলতানা। তিনি জায়গাটির মালিক দাবিদার মোহাম্মদ মোর্শেদ হোসাইনকে পাহাড় কাটার বিষয়ে কারণ দার্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। এছাড়া আগামী ৯ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানীতে অংশগ্রহণ করার নির্দেশ দেন।

ফখ|চখ

এই বিভাগের আরও খবর