chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

ঈদের ছুটিতে মিরসরাইয়ের পর্যটন স্পটগুলোতে উপচেপড়া ভিড়

দীর্ঘ সময় বন্দি জীবন থেকে ছুটি পেয়ে বেড়াতে কার না মন চায়। তাই এবার ঈদে লম্বা ছুটি পেয়ে ইচ্ছেমত ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমনপিপাসুরা । ঈদের দিন দুপুর থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ডজনখানেক পর্যটন স্পটে মানুষের পদচানায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠিদের নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন এসব স্পটে। ছোট-বড় সব বয়সীরা ছবি তুলে গান গেয়ে আনন্দ করে ঈদের ছুটি উপভোগ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ঈদের উৎসব হয়েছে ভিন্নরকম। প্রতিবার রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থাকায় প্রশাসন এবং জনগন সাংসদ সদস্যদের খুশি করতে তাদের বাড়িতে ভিড় করতেন । এবার সে রকম দৃশ্য  নেই। ধনী-গরিব কে বড়-ছোট কে পার্থক্য খুঁজেনি কেউ। পুরো সময় কেটেছে পরিবারের সাথে  আনন্দে। উৎসবে মেতেছে  স্কুল কলেজ বিশ্বিবদ্যালয় ও বাল্য জীবনের সহপাঠী  বন্ধুদের সাথে আড্ডায়। ৯ দিনের একটানা লম্বা ছুটিতে উপজেলার ১২টি পর্যটন স্পট  ভ্রমন পিপাসুদের কাছে অন্যতম  আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। কক্সবাজার বা সিলেটের মতো না হলেও  মিরসরাইয়ের সবুজ পরিবেশ, নির্মল হ্রদ, মনোরম ঝরনা, সমুদ্রসৈকত প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকদের বিনোদন দিচ্ছে উজাড় করে। দর্শনার্থীরা দিন দিন এই উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

মিরসরাইয়ে ১২টি পর্যটন স্পটের মধ্যে রয়েছে- মুহুরী প্রজেক্ট, ডোমখালী সমুদ্রসৈকত, শিল্পজোন সমুদ্রসৈকত, সকল বয়সী ভ্রমন পিপাসুদের বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ আরশী নগর ফিউচার পার্ক, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া সেচ প্রকল্প ও হৃদ, আট স্তর বিশিষ্ট জলপ্রপ্রাত খৈয়াছড়া ঝরনা, রূপসী ঝরনা, বাওয়াছড়া প্রকল্প, বোয়ালিয়া ঝরনা, জাতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উপকূলীয় বন,  হিলসডেল মাল্টি ফার্ম এন্ড মধুরিমা রিসোর্ট  ও  মেলখুম ট্রেইল।

এবার ঈদে এখানকার পর্যটনের স্পষ্ট গুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছরের তুলনায় আরও বেশি দর্শনার্থীর ভিড়ে  মুখরিত।

ঈদের তৃতীয়দিন আরশি নগর ফিউচার পার্কে গিয়ে দেখা গেছে, মানুষের পচন্ড ভীড়। এযেন অন্যরকম আরশিনগর। সব বয়সী মানুষে প্রচন্ড ভিড়। পার্কের বিভিন্ন স্পটে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলছেন, গল্প করছেন। বিভিন্ন ব্যাচের সহপাঠীদের নিয়ে চলছে ঈদ উৎসব ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। বিশেষ করে বেশী আনন্দ করতে দেখা গেছে পরিবারের সাথে আসা শিশুদের। শিশুরা বিভিন্ন বিভিন্ন রাইডসে চড়তে দেখা গেছে। অনেকে শিশু বিভিন্ন জীবের আকৃতির সাথে ছবি তুলছেন।

পার্ক কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছ, ১০০ টাকায় টিকেট কিনে অনেক কিছু দেখার সুযোগ রয়েছে এখানে। পরিপূর্ণ ঈদ উৎসব উপভোগের সুযোগ রয়েছে এখানে।

আরশি নগর ফিউচার পার্কের পরিচালক জামাল উদ্দিন জানান, নতুন ব্যবস্থাপনায় মানুষের মন জয় করেছে আরশি নগর ফিউচার পার্ক। সব বয়সী মানুষের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে আমরা সাজিয়েছি পার্কের বিভিন্ন রাইডস গুলো। এবার প্রতি বছর থেকে বেশি দর্শনার্থী এসেছে। প্রচুর পর্যটক সমাগম হচ্ছে প্রতিদিন। আমরা পর্যটকদের সন্তুষ্ট রাখতে চেষ্টা করেছি। সুস্থ বিনোদনের জন্য মানুষ স্বপরিবারে এখানে আসে।

 

মারুফ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়াত বিন মাঈন বলেন, আমার বাবার সাথে এখানে বেড়াতে এসেছি। কয়েকটি রাইডসে চড়েছি, আমার অনেক ভালো লেগেছে।

চোখে পড়ার মতো পর্যটক দেখা গেছে মহামায়া ইকোপার্কে। এখানে ভ্রমণপিপাসু শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ একটু বিনোদন পেতে ছুটে যাচ্ছেন। পর্যটকদের আনাগোনায় অনেকটা আগের চিরচেনা রূপ বদলে এবার নতুন মাত্রায় ফিরেছে এই পর্যটন স্পটি।

পরিচালক মোঃ শরিফ জানান, আমরা প্রচুর দর্শনার্থী পর্যটকের সমাগম দেখতে পাচ্ছি এবার। বিগত বছরের তুলনায় পর্যটক অনেক বেশি আসছে।

ঈদের তৃতীয়দিন ডোমখালী সমুদ্রসৈকতে মানুষের স্রোত দেখা যায় । অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা এক প্রাকৃতিক সৈকত  ডোমখালী বিচ। ঝাউবন, লাল কাকড়ার চর, উত্তাল সাগরে নৌকা ভেসে বেড়ানো, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, হরিণের পদচিহ্ন সবই দেখতে ছুটে যাচ্ছেন সব বয়সী মানুষ।

শুধু দিনে নয়, রাতেও সাগর পাড়ে দেখা মেলে অসংখ্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের। রাতে বিশাল সমুদ্রের গর্জন কান পেতে শুনে সেখানে ছুটে যান তরুণরা।

স্থানীয় শিক্ষক ওসমান গনি জানান, আমাদের মিরসরাইয়ের নতুন সম্ভাবনা ডোমখালী সমুদ্র সৈকত। পর্যটকদের কাছে এর চাহিদা দিনদিন বাড়ছে। এ বছর পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় প্রচুর পর্যটক  আসছে।  কোন টিকিট না থাকায় মানুষ মুক্ত পরিবেশ যার যার মতো আনন্দ উৎসব করছে। সমুদ্রের লোনা পানিতে পা ভিজিয়ে আনন্দ পাচ্ছে।

উপজেলার আরেক কৃত্রিম লেক বাওয়াছড়ায় যাচ্ছেন কেউ কেউ।  বাওয়াছড়া লেক স্থানীয়ভাবে নীলাম্বর লেক নামেও পরিচিত। ঈদের ছুটিতে  এখানে দুই পাশের সুউচ্চ পাহাড় থেকে পানি লেকে গড়িয়ে পড়ার দৃশ্য ও শব্দ পর্যটকদের সব ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর করে দেবে।  এখানে যুবকদের পদচারণা বেশি। দুর্গম  পাহাড়ের উঁচু নিচু পথ পাড়ি দিয়ে  ক্লান্তি আসে যে কারো। সে কারনে বয়স্কদের এখানে কম দেখা মিলে।

উপেজলার পাহাড়ি ঝরনাগুলো রাস্তার মুখে মহাসড়কের সংযোগ সড়কে দাঁড়ানো গাড়ির লাইন দেখে বুঝা যাচ্ছে কী পরিমাণ ভ্রমণপিপাসু লোজন ঝরনায় ছুটে আসছে। যদিও বর্ষা মৌসুমের মত পানি এখন নেই। তবুও পর্যটকরা দুর দুরান্ত থেকে এসে সব স্পটে না গেলে আনন্দ অপূর্ণ থেকে যায়। তাদের কাছে  ঝরনায় আনন্দই আলাদা। এভাবে মিরসরাই প্রতিটি পর্যটন স্পটে এখন প্রচুর মানুষ । প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে একই রকম ভিড়। কোন স্পটে যে মানুষ কমছে না। কয়েকটি স্পটে শুধুমাত্রা ইজারার কারণে টিকেট সংগ্রহ করে যেতে হয়। বেশীর ভাই পর্যটন স্পট উন্মুক্ত।

কুমিল্লা থেকে ঘুরতে আসা মিনহাজ উদ্দিন বলেন, মিরসরাইয়ের সব ঝরনা মোটামুটি দেখা হয়ে গেছে। শুধু বোয়ালিয়া ঝরনা ঘুরতে পারিনি। এবার ঈদের ছুটিতে এখানে ঘুরতে এলাম। খুব ভালো লাগছে আমরা একটি বাস ভাড়া করে এসেছি। আমাদের গ্রুপে প্রায় ২৮ জন রয়েছে।

মিরসরাই উপজেলার ধুম থেকে মহামায়া ঘুরতে আসা এক নবদম্পতি জানান, এবার প্রথম এসেছি, খুব ভালো লাগছে এখানে যে কেউ বার বার আসতে চাইবে। এরপর যাবো আরশি নগর ফিউচার পার্কে।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন বলেন, ঈদের ছুটি থাকায় এবার পর্যটক বেড়েছে। অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলেতে সারা বছর পর্যটক থাকেন। ঝরনায় বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে আসা-যাওয়া করতে বলা হয়েছে। গাইড ছাড়া কেউ যেন ঝরনা যেতে না পারেন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া আছে।

তাসু/চখ

এই বিভাগের আরও খবর