chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

মিরসরাইয়ে ছাত্রদলের নারী কর্মীকে ধর্ষণচেষ্টা, মামলার আসামি গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আলোচিত ছাত্রদলের এক নারী কর্মীকে অপহরণ করে ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলার এজাহার নামীয় আসামি সাজ্জাদ হোসেন প্রঃ নোবেল (২৩), কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) রাতে খুলশী থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

সাজ্জাদ ইছাখালী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের পূর্ব ইছাখালী, হোসেনের জমানের বাড়ীর মোঃ শাহ আলমের ছেলে। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত  ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। তার বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় দুটি মামলা রয়েছে।

জানা যায়, দুই পুলিশ সদস্যসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুলে মামলাটি দায়ের  করেন ছাতদলের নারী কর্মী নাদিয়া নুসরাত।  পতিত হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়  মামলার আসামীদের পুলিশ গ্রেফতার করেনি পুলিশ। উল্টো আসামীরা নাদিয়ার পরিবারকে নির্যাতন ভয়ভীতি হুমকি দমকি দিয়ে জীবন বিপন্ন করে তোলে। নাদিয়া বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারেদ্বারে দিনের পর দিন ঘুরতে থাকেন।

মামলার বাদি নাদিয়া নুসরাত জানান, ছাত্রদলের রাজনীতি করার অপরাধে আমাকে এবং আমার মাকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা মিলে জীবন বিপন্ন করে তোলে। প্রশাসনের কাছে সুবিচার পাইনি ফ্যাসিবাদ সরকারের আমলে।   মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রনজিত, অজ্ঞাতপরিচয় এক কনস্টেবল, স্থানীয় বাসিন্দা মো. রহমান, মো. পাভেল, মো. নোবেল, মো. কামরুল, মো. মিঠু, মো. রাসেল, মো. সুমন ও মো. শাহাদাত।

বাদীর আইনজীবী জহুরুল আলম বলেন, গত বছর ২৬ জুন আদালতে মামলা নেওয়ার আবেদন করা হয়। আদালত শুনানির জন্য রাখেন। শুনানি শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ জুন চট্টগ্রাম নগরে তারুণ্যের সমাবেশ শেষে রাতে বাড়িতে ফেরার পথে মিরসরাইয়ের মিঠাছড়া এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ঘেরাও করে ফেলেন সাজ্জাদ, রহমান সহ ৬ আসামি। তাঁরা বাদীর শ্লীলতাহানি করেন। পরে মামলায় ফাঁসানোর কথা বলে জোরারগঞ্জ থানায় ফোন করেন আসামিরা। পুলিশ এসে বাদীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে থানায় নিয়ে যায়। ওই সময় অটোরিকশায় দুই পুলিশ সদস্য তাঁর পাশে বসেন। তাঁকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় পরদিন। ওই মামলায় বাদী ১৯ জুন জামিনে মুক্তি পান।

মামলার বাদি ছাত্রদল মহিলা নেত্রী নাদিয়া নুসরাত জানান, বিচারহীনতার আওয়ামী সরকারের আমলে চট্টগ্রামে তারুন্যের সমাবেশে যাওয়ার কারনে আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে, আমার পরিবারকে টার্গেট করে মব সৃষ্টি করে আমাদের জীবন বিপন্ন করা হয়েছে। প্রশাসনের দ্বারেদ্বারে ঘুরে উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছি। জোরারগঞ্জ থানার ওসি মামলা নিতে গড়িমসি করে। স্থানীয় একটি আওয়ামী সুবিধাভোগী  অনলাইন মাল্টিমিডিয়া নিউজ  ঘটনা ধামাচাপা দিতে  আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারনার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে । কোনো সুবিচার পাইনি তখন।

১ বছর ৯ মাস পর একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ আমাকে ভিন্নমতের রাজনীতি করার কারনে নির্মম নির্যাতন করেছে। সকল আসামীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।  

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাব্বির মোহাম্মদ সেলিম বলেন ছাত্রদলের নারী কর্মীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি সাজ্জাদ হোসেন প্রঃ নোবেলকে র্যাব এর সহায়তায় চট্টগ্রামের গরীবুল্লাহ শাহ হাউজিং সোসাইটি থেকে গ্রেপ্তার করে খুলশী থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাতে জোরারগঞ্জ পুলিশ নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে চালান দেওয়া হয়েছে।

তাসু/চখ

এই বিভাগের আরও খবর