চমেক হাসপাতালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা
ম্যাটস ও ডিএমএফ ইস্যুতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মত কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা ।
বুধবার (১২ মার্চ) সকালে চমেক অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে ইন্টার্ন চিকিৎসক কাউন্সিলের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এ সময় জরুরি বিভাগ ছাড়া সব ধরনের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে হাসপাতালে।
তবে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে সিনিয়র চিকিৎসকরা তাদের সেবা কার্যক্রম চালু রেখেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন।
এই কর্মবিরতির কারণে আজ বুধবার সকাল থেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী দেখা বন্ধ রেখেছেন চিকিৎসকরা। এতে করে দূর দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়েছেন বিপাকে।
কেবল বহির্বিভাগে নয়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে এই কর্মসূচিতে।
চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে মেডিকেলে আসা আরমান জানান, সকাল ৯ টায় এসে টিকেট নিয়েছি, এখনো ডাক্তার দেখাতে পারিনি। আজকে ডাক্তার দেখাতে পারবো কিনা জানি না। এরকম হবে জানলে এত কষ্ট করে রোজার দিনে মাকে নিয়ে এখানে আসতাম না।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, “হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।“
তবে জরুরি বিভাগসহ অন্যান্য বিশেষ সেবা চালু রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিভিন্ন ওয়ার্ডে অন্যান্য সিনিয়র চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিচ্ছেন, সে কারণে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। এছাড়া আইসিইউ সেবাও চালু আছে।”
আন্দোলনকারীদের একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, “বিডিএস ও এমবিবিএস ডিগ্রি ছাড়া অন্য কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে নাসহ পাঁচদফা দাবিতে সারাদেশের মত আমরা চট্টগ্রাম মেডিকেলেও কর্মবিরতি ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করছি। কর্মবিরতি হলেও জরুরি সেবা বিশেষ করে আইসিইউ, সিসিইউসহ প্রয়োজনীয় সেবা চালু আছে।”
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও নগরীর মা ও শিশু হাসপাতাল, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মেরিন সিটি এবং সাউদার্ন মেডিকেলের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও এ কর্মসূচি পালন করছেন।
মআ/চখ
