রমজানে ৪০ শতাংশ কমেই এবার খেজুর কিনবে ক্রেতারা
আর কিছুদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে রমজান মাস। ইফতার আয়োজনে সাধারণত ভাজাপোড়া ও মুখোরোচক খাবার খেতে দেখা যায়। এসব খাবারের সঙ্গে প্রধান খাবার হিসেবে থাকে খেজুর। বলা হয় যে, এ সময়েই দেশে সবচেয়ে বেশি খেজুর আমদানি ও বিক্রি হয়। প্রতি বছর রমজানকে কেন্দ্র করে খেজুরের বাজার চড়া থাকলেও এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বর্তমানে প্রতি কেজি খেজুরের দাম বছরের ব্যবধানে কমেছে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। এবার ১০ শতাংশ শুল্কহার কমানোয় খেজুরের দাম কমেছে। পবিত্র রমজান মাসে খেজুরের দাম আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা।
আমদানির তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি খেজুর আসে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এছাড়া তিউনিসিয়া, মিসর, জর্ডান, ইরাক, ইরান ও পাকিস্তান থেকেও খেজুর আমদানি হয়।
গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আল ওয়ালিদ এন্টারপ্রাইজের ২৫ টনের একটি আজওয়া খেজুরের চালান খালাসের সময় সরকারকে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ককর দিতে হয়েছে ১৭০ টাকা করে।
একই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গত বছরের একই সময়ে একই মানের খেজুরের একটি চালান খালাস করে ২০৮ টাকা শুল্ককর দিয়ে।
অর্থ্যাৎ এবার শুল্ককর কমানোর কারণে প্রতি কেজি খেজুর আমদানিতে অন্তত ৩৮ টাকা কম ব্যয় হয়েছে।
ওয়ালিদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবদুল ওয়াদুদ জানান, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খেজুরের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন আমদানিকারক। তবে এ বছর শুল্ক ছাড়ের কারণে আরও বেশি ব্যবসায়ী বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। ফলে আমদানি বেড়েছে এবং দামও তুলনামূলক কম রয়েছে।’
চট্টগ্রামে খেজুরের পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরেও দেখা গেছে, সরবরাহ বাড়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম তুলনামূলক কম।
বহু জাতের খেজুরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ইরাকি জায়েদি খেজুরের। এছাড়া নিম্নবিত্তের ভরসায় আছে নরম বরই খেজুর। গত বছরের তুলনায় নরম বরই খেজুর ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, জায়েদি খেজুর ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কমে ৩৫০ থেকে ৩৭০, আজোয়া খেজুর ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কমে ৬০০ থেকে ৮০০, মেডজল খেজুর ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কমে ৯০০ থেকে ৯৫০ এবং মাবরুম খেজুর ৪০০ টাকা কমে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে বহুল চাহিদা থাকা জায়েদি খেজুর পাইকারিতে ১০ কেজি কার্টুনের দাম ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বস্তার খেজুর ১২৫ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জায়েদি খেজুরের দাম আরও কমে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রামের ফলমন্ডির পাইকারি ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন চট্টলার খবরকে বলেন, এবছর খেজুরের দাম এখন থেকেই কম। আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। দাম নিয়ে সবাই শুধু ব্যবসায়ীদের দোষ দেয়। কিন্তু এবার সরকার যেভাবে মনিটরিং এ রেখেছে তাতে দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। এবার খেজুরের দাম রমজানের শুরুতেও কম থাকবে। পরে হয়তো আরও কমতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র থেকে জানা গেছে, পচনশীল পণ্য হওয়ায় দুই মাস আগে রমজানকে লক্ষ্য করে খেজুর আনা হয়। সে হিসেবে গত রমজানের আগের ৬০ দিনে ৫৪ হাজার ৩৫৩ টনের বেশি আমদানির বিপরীতে এবার আনা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৭০ টন আর পাইপ লাইনে রয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ চট্টলার খবরকে বলেন, আমরা প্রতিদিন নগরের বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। কত দিয়ে কিনেছে, কত দামে বিক্রি হচ্ছে- সবকিছু যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি মূল্য তালিকা টাঙানো ও বাড়তি দরে পণ্য বিক্রি না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণ পেলেই জরিমানা করছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। তবুও ভোক্তারা যদি প্রতারণা বা ভোগান্তির শিকার হন আমাদের জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তাসু/চখ