chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রস্তুত

আসন্ন একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে দীর্ঘ তিন বছর পর চট্টগ্রামের পুরনো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থানে নবনির্মিত শহীদ মিনারে এবার শ্রদ্ধা জানানো হবে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পরিদর্শনে গিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন ও রঙের কাজ শেষ করে প্রস্তুতি সম্পন্নের ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে নগরীর কে সি দে সড়ক এলাকায় মুসলিম ইনস্টিটিউট হলের সামনে ১৯৬২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের এই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মিত হয়। তখন থেকেই নগরীর ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে শহীদ মিনারটি।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের অধীনে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স প্রকল্পের ব্যয় শুরুতে ধরা হয় ২৩২ কোটি টাকা। পরে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে হয় ২৮১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

একটি প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স পুনঃ নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর শহীদ মিনারটি ভেঙে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে পুরো কমপ্লেক্সের ৮৭ ভাগ কাজ শেষ হাওয়ার মাথায় শহীদ মিনারটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় পাবলিক লাইব্রেরি ও মুসলিম ইনস্টিটিউট হল অংশের সাথে সড়কের বিপরীত পাশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অংশকে একটি প্লাজা দিয়ে যুক্ত করার নকশা করা হয়।

ওই নকশা অনুসারে সড়কের উপর দিয়ে প্লাজা নির্মাণের জন্য আগের শহীদ মিনারটি ভেঙে ভিত্তি উঁচু করে একই আদলে নতুন শহীদ মিনার নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে সে সময়ের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে সভা করে পুরনো শহীদ মিনারটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২১ সালের জানুয়ারিতে পুরনো শহীদ মিনার ভাঙা শুরু হয় এবং মিউনিসিপ্যাল মডেল হাইস্কুল মাঠে অস্থায়ী আরেকটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেয় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা গণপূর্ত অধিদপ্তর।

আজ শহীদ মিনার পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, ‘কে সি দে রোডস্থ নবনির্মিত চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ ছিল এবং এতদিন অস্থায়ী শহীদ মিনার হিসেবে মিউনিসিপ্যাল মডেল হাইস্কুলে শহীদ মিনারকে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটাও সিটি করপোরেশনের একটা স্কুল। আশা করছি, চট্টগ্রামের মানুষ ২০২৫ সালে এসে ২১ ফেব্রুয়ারি নতুন যে স্থাপনা আগের যে জায়গা সেই ঐতিহ্যবাহী জায়গায় তারা ফুল দেবে এবং এটা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে’।

চখ/ককন  

 

এই বিভাগের আরও খবর