উপ সম্পাদকীয়
বিজয় দিবসের শপথ
বাংলাদেশ— শব্দটি খুব ছোট। কিন্তু এ শব্দটি অর্জন করার জন্য আমাদের পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘপথ। পথটিও ছিল কণ্টকাকীর্ণ। নানা বাধা-বিপত্তি পার করে আজ আমরা ২০২৪ সালে পৌঁছেছি। বারবার এ দেশের ক্ষমতা চলে গিয়েছিল অন্য দেশের হাতে। অন্য দেশ আর কোনো দেশ নয়- আমাদের
প্রতিবেশী দেশ ভারত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তারা আমাদের সাহায্য করেছিল সত্যি। কিন্তু তার পেছনে লুকিয়ে ছিল দুরভিসন্ধি। তারা চেয়েছিল বাংলাদেশকে সাহায্য করার মাধ্যমে তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। তারা করেছিলও। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থান তা থামিয়ে দেয়। তাদের দালাল শেখ হাসিনাকে ছাত্র-জনতা পলায়নে বাধ্য করেছে।
হাসিনার আমল ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। কেউ মন খুলে ফেসবুকে পর্যন্ত পোস্ট লিখতে পারত না। দানব সরকারের সমালোচনা করলেই যেতে হতো জেলে। অথবা গুম হতে হতো তাকে। লেখক মুশতাক আহমেদের কথা আমরা স্মরণ করি, স্মরণ
করি বুয়েটের আবরার ফাহাদের কথা। শুধু সমালোচনা করেছিল বলে তাদের জীবন চলে গিয়েছিল। এরকম আরো অগণিত মানুষকে তারা গুম করেছে ও হত্যা করেছে।
জুলাই-আগস্টে তারা প্রায় এক হাজারেরও অধিক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। যা ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায় হিসেবেই থাকবে। এত প্রাণের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন ঘটিয়েছি। এভাবে যাতে আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে সবার। কোনোভাবেই আর স্বৈরাচার সম্পর্কিত সরকারকে এ দেশে স্থান যাতে না দেওয়া হয়। বিজয় দিবসে শুধু এসব আলোচনা করলে হবে না। সারা বছরই এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে সব নাগরিককে।
নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই যেন থেমে না যায়। আমাদের লড়াই তো ছিল শুধু মায়ের মুখে, সন্তানের মুখে হাসি ফুটানোর লড়াই। এ লড়াই যেন ছিনতাই না হয়।
আমরা যেন সাধারণ সব নাগরিক সর্বদা ঐক্য নিয়ে থাকতে পারি। ১৬ ডিসেম্বরে আমাদের কিছু কিছু বিষয়ে শপথ নেওয়া প্রয়োজন— মৌলিক চাহিদাগুলো যেন প্রতিটি নাগরিক পান ।
যদি একজন মানুষও না খেয়ে মরে এ দেশে তাহলেও বুঝতে হবে আমরা আসলে নামে মাত্র বিজয় দিবস পালন করি, আসলে আমরা এখনো স্বাধীনতাই অর্জন করতে পারিনি।
ভবিষ্যতে নির্বাচন হবে। সে নির্বাচনে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, তাদের কাছেও আমাদের একটি কথা বলার
আছে— নাগরিকরা যেন থাকে দুধে-ভাতে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে— আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব যেন বজায় থাকে। ভারতের আধিপত্য থেকে আমরা এখন স্বাধীন। অন্য কোনো দেশ ও যাতে আমাদের ওপর ছড়ি না ঘোরাতে পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। আমাদের ভূখণ্ড
আমাদের সাগর ও আমাদের পরিবেশের ওপর যাতে কোনো ধরনের আঘাত না আসতে পারে। যদি আসে, আমরা আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের রুখে দেব। এই হোক বিজয় দিবসের অঙ্গীকার।
◑ ফখ|চখ
