chattolarkhabor
চট্টলার খবর - খবরের সাথে সারাক্ষণ

বেক্সিমকোতে তত্ত্বাবধায়ক বসাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

 

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বেক্সিমকোর গ্রুপের সব কোম্পানি তত্ত্বাবধানে তত্ত্বাবধায়ক বা ‘রিসিভার’নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক রুহুল আমিনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; যিনি ক্ষমতার পালাবদলের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কারাগারে থাকা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন গ্রুপের আর্থিক ব্যবস্থাপনা তদারকিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

রোববার বাংলাদেশ পর্ষদ সভায় বেক্সিমকোতে রিসিভার নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এক আদেশের প্রেক্ষাপটে এ শিল্পগ্রুপে তত্ত্ববাধয়ক নিয়োগ দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নির্বাহী পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।“

উপমহাদেশের কোনো গ্রুপ অব কোম্পানিতে ‘রিসিভার’নিয়োগ দেওয়ার নজির না থাকার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “বেক্সিমকো দেশের অন্যতম বড় একটি গ্রুপ। এই গ্রুপের অনেক কোম্পানি রয়েছে। গ্রুপটির সকল কোম্পানি কীভাবে এটির কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে সে জন্য আমাকে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আগের সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে শুরুর দিকেই গ্রেপ্তার হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। একাধিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি এখন কারাগারে।

বেক্সিমকো গ্রুপের এই ভাইস চেয়ারম্যান কারগারে থাকার সময় গত ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করতে ছয় মাসের জন্য তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ এবং এই গ্রুপের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংককে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

একইসঙ্গে সালমান এফ রহমান বিভিন্ন ব্যাংক থেকে যত টাকা নিয়েছেন তা উদ্ধার করতে এবং বিদেশে পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়, যা বাংলাদেশ ব্যাংককে বাস্তবায়ন করে চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে চেম্বার বিচারপতি রেজাউল হক বিষয়টি শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ রিসিভার নিয়োগের অনুমোদন দিয়ে এক নির্বাহী পরিচালককে এ দায়িত্ব দিল।

এ দায়িত্ব পাওয়া রুহুল আমিন বলেন, বেক্সিমকো গ্রুপকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে দিতে হবে। কারণ এই গ্রুপের সাথে অনেকের কর্মসংস্থান জড়িত।

”এটি অর্থনীতির সাথে সম্পির্কিত। লক্ষাধিক কর্মী এখানে কর্মরত রয়েছেন। তাছাড়া এ গ্রুপ থেকে সরকারও রেভিনিউ (রাজস্ব) পায়।”

পুরোপুরি দায়িত্ব নেওয়ার পর টাকা পাচার সংক্রান্ত কোন ঘটনা শনাক্ত করতে পারলে তিনি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জানাবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেবেন বলেও তুলে ধরেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, “আমার প্রধান কাজ এই কোম্পানিটিকে ঠিক মত পরিচালনা করা। এই গ্রুপের প্রোডাক্ট বিক্রি করার পর সংশ্লিষ্ট চ্যানেলে টাকা যাচ্ছে কি না সেই বিষয়ে তদারকি করা হবে।”

গ্রুপটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে অর্থনীতির জন্য তা ক্ষতির কারণ হবে। তাই আদালতের নির্দেশনার মধ্যেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর বাইরে যেয়ে কোনো কাজ করা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন সালমান এফ রহামন। প্রায় ১০০০ কোটি টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের এই কর্ণধারসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ১৭টি মামলা করেছে সিআইডি।

গ্রুপটির বিরুদ্ধে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার এবং অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে আলাদা অনুসন্ধান চালাচ্ছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম।

-চখ/আরএ

এই বিভাগের আরও খবর