ছবি: এম ফয়সাল এলাহী
হাতের স্পর্শ বদলে দিল তাদের জীবন
হাত দিয়ে স্পর্শ করে একেকটি শব্দ পড়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের ছাত্র মোহাম্মদ আল আমিন।মাঝে মাঝে হাতের স্পর্শ ঠিক ভাবে না হওয়ায় থেমে যাচ্ছিলেন।তারপরও পড়েই যাচ্ছেন।আইনের ছাত্র হলেও পড়ছিলেন মুনতাসির মামুনের লেখা ঢাকার কথা বইয়ের ব্রেইলি সংস্করণ। তার পাশে দাঁড়িয়ে হাতের স্পর্শে বই পড়ছিলেন রাহি-আবিদ সহ আরও অনেকে।কারো চোখে আলো নেই।তবে হাতের স্পর্শে তারা সবাই আলোকিত।চট্টগ্রাম অমর একুশে বইমেলার স্পর্শ ব্রেইলি স্টলে গিয়ে এমন চিত্র চোখে পড়ে। সবাই মুরাদপুর সরকারি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুল থেকে পাস করে বর্তমানে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।
শুধু বইপড়া নয়, কম্পিউটার চালনায়ও তারা সমানভাবে পারদর্শী। সবার হাতে আছে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন।আধুনিক সভ্যতার প্রতিটি প্রযুক্তি সাথে তারা প্রতিনিয়ত পরিচিত হচ্ছে।পিছিয়ে নেই সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও।এবারের বইমেলায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রাহী জি চৌধুরীর কবিতার বই ‘মুক্ত কবির কাব্য’। রাহী বর্তমানে সরকারি সিটি কলেজে অধ্যায়নরত।
রাহী জি চৌধুরী বলেন, বইয়ের পর্যাপ্ত ব্রেইলি সংস্করণ না থাকায় পড়ার ইচ্ছা থাকলেও আমরা অনেক বই পড়তে পারি না।কোনো লেখক আমাদের কথা চিন্তা করে না। আমরা তো সমাজেরই অংশ।আমি ব্রেইলি সংস্করণে লেখাপড়া করলেও ব্রেইলি সংস্করণে আমি লিখতে পারছি না। আমি মনেকরি প্রতিটি লেখকের আমাদের কথা চিন্তা চিন্তা করে তাদের বইগুলোর ব্রেইলি সংস্করণ বের করা উচিত।
সরকারি সিটি কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র মো. আবিদুর রহমান বলেন, আমরাও তো মানুষ। আমাদেরও আবেগ-ভালোবাসার অনুভূতি আছে।আমরাও সমাজের আর দশটা মানুষের মতো স্বাভাবিক হয়ে বাঁচতে চাই। আমরা বোঝা নই।
তিনি বলেন, আমরা যখন পরীক্ষা দেওয়ার সময় আমরা শ্রুতিলেখক পাই না। পেলেও দুয়েকটা পরীক্ষার পর চলে যায়।ফলে পরীক্ষার সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এসব দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের কথা সাধারণ মানুষের কাছে পৌছানোর উদ্যোগ নিয়েছেন সামাজিক সংগঠন হেলথ, এডুকেশন এন্ড পোভার্টি এলিভিয়েশন (হেপা)। প্রতিবছর ঢাকা অমর একুশে বইমেলায় ‘স্পর্শ ব্রেইলি’ স্টল থাকলেও চট্ট্রগামে এ বছর প্রথমবারের মতো স্টল বরাদ্দ নিয়েছে তারা।
হেপা’র পরিচালক নির্বাহী পরিচালক নাসিমা শওকত বলেন, প্রতিবন্ধী মানে প্রতিভা বন্ধী নয়। তাদের প্রতিভা কথা প্রায় সবার কাছে অজানা।তাদের প্রতিভা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে আমাদের এ আয়োজন। এরা এখন আর পিছিয়ে নেই। আর দশজন মানুষের মতো প্রযুক্তির সব ক্ষেত্রে সমানভাবে পারদর্শী।
তিনি আরও বলেন, আমাদের তো বেশি অর্থ নেই। তাই আমরা বাছাই করে মাত্র ৮০ টি বইয়ের ব্রেইলি সংস্করণ বের করেছি। আমাদের লেখরা হয়তো জানেন না তাদের পাঠকদের একটা অংশ প্রতিবন্ধী।তারাও বাকী সবার মতো পড়তে চায়।
এছাড়া আরও অনেক সামাজিক কার্মাকান্ডের সাথে জড়িত আছে সামাজিক সগঠন ‘হেপা’। নামমা্ত্র মূল্যে বিভিন্ন রোগের সকল পরীক্ষা ও টিকা দেওয়া হয় এই স্টলে।আগামীকাল ‘হেপা’র স্টলে হেপাটাইটিস-‘এ’ এবং ‘বি’, জন্ডিস ও জরায়ু ক্যান্সারের টিকা প্রদান কর্মসুচি শুরু হবে।
